কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :০১ জানুয়ারি ২০২৬

নবান্নে বুধবার সন্ধ্যায় প্রশাসনিক ইতিহাস তৈরি হল। রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে প্রথমবার কোনও মহিলা আইএএস অফিসারকে দায়িত্ব দিল সরকার। দীর্ঘদিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলানো Nandini Chakraborty হলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে এলেন Jagdish Prasad Meena।

বুধবারই ছিল বিদায়ী মুখ্যসচিব Manoj Pant-এর দায়িত্বের শেষ দিন। গত জুনে তাঁর মেয়াদ শেষ হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতিতে ছ’মাসের জন্য তা বাড়ানো হয়েছিল। তবে এ বার আর মেয়াদ বাড়েনি। নবান্ন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন নন্দিনী চক্রবর্তী।

সূত্রের খবর, মনোজ পন্থের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ফের চিঠি পাঠানো হলেও সেই প্রস্তাবে সাড়া মেলেনি। সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee প্রশাসনিক রাশ নতুন হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এতদিন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় সামলাচ্ছিলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। এবার ১৯৯৪ ব্যাচের এই আইএএস অফিসারের কাঁধে রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। প্রশাসনিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, দক্ষ প্রশাসক ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্য পরিচিত নন্দিনীর উপর মুখ্যমন্ত্রীর আস্থা অনেকদিনের। সেই আস্থারই স্বীকৃতি এই নিয়োগ।

নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় স্বরাষ্ট্রসচিব হলেন ২০০৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার জগদীশ প্রসাদ মিনা। আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে তাঁর উপর ভরসা রাখল রাজ্য সরকার।

একই সঙ্গে আইএএস মহলেও একাধিক রদবদল হয়েছে। দায়িত্ব বৃদ্ধি বা নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন অত্রি ভট্টাচার্য, সুরেন্দ্র গুপ্তা, দুশমন্ত নারিয়ালা ও বরুণ কুমার রায়-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।

মুখ্যসচিব পদ থেকে সরে গেলেও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু নবান্নেই থাকছেন মনোজ পন্থ। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই পদে বর্তমানে রয়েছেন গৌতম সান্যাল। এবার দু’জনেই মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রশাসনিক রদবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ। অভিজ্ঞ ও আস্থাভাজন আধিকারিকদের দিয়েই নবান্নের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্ত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী—এই বার্তাই স্পষ্ট।