কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১৭ নভেম্বর

দীর্ঘ কারাবাস, রাজনৈতিক অন্ধকার, দলীয় দূরত্ব—সবকিছুকে সঙ্গী করেই ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা শুরু করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। একসময় বেহালা পশ্চিমে তাঁর পার্টি অফিস ছিল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু গ্রেফতারের পর সেই অফিস তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অস্থায়ী যে ঘরটিতে বসে তিনি কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করতেন, সেটি পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়।

কিন্তু এখন—দীর্ঘ ২৮ মাসেরও বেশি কারাবাস কাটিয়ে জামিনে ফিরে—পার্থ যেন নতুন এক পথ বেছে নিতে চাইছেন। দলের কাছে ভরসা নেই, রাজনৈতিক মঞ্চ অনিশ্চিত। তাই এবার ভরসা ‘জনতা জনার্দনের আদালত।’

ইতিমধ্যেই তাঁর অনুগামীরা এলাকায় লিফলেট বিলি শুরু করেছেন। সেই লিফলেটে পার্থর বক্তব্য আরও স্পষ্ট, আরও তীব্র—
“আমি কার কাছ থেকে চাকরির বদলে টাকা নিয়েছি? প্রমাণ নিয়ে আসুন। কেউ যদি আমার নামে টাকা নিয়ে থাকে, জানান। ব্যবস্থা নেব আমি।”

দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর এই প্রথম তিনি অভিযোগের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন।

টাকা উদ্ধারের ঘটনার পর তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। সেই বিতর্কেই বিপাকে পড়েছিল তৃণমূল। ফলত দলও পার্থর থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছিল।

তবে জামিনে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার অর্পিতার প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর কথায়—
“স্ত্রীকে হারানোর পর জীবনের শূন্যতা অর্পিতা পূরণ করেছে। অর্পিতা ছিল, আছে, থাকবে।”
তিনি আরও দাবি করেন,
“অর্পিতা ওড়িয়া চলচ্চিত্রের এক নম্বর নায়িকা ছিলেন—আমি কখনওই এই সম্পর্ক অস্বীকার করব না।”

এই মন্তব্য ফের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে।

যদিও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় জামিন পেয়েছেন পার্থ, কিন্তু ক্লিনচিটের সম্ভাবনা আপাতত দূরের। অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন। এই কারণেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
দল তাঁকে এখনও স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নয়—এই বাস্তবতা জেনেই তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক পুনর্গঠনের রাস্তায় ‘জনতার আদালত’কে বেছে নিয়েছেন।

শুক্রবার থেকেই জনসংযোগে নামার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সূত্র জানাচ্ছে, রবিবার পুরনো পার্টি অফিসের সামনেই রাখা হবে একটি ‘জনবাক্স’, যেখানে এলাকার মানুষ তাঁদের অভিযোগ, পরামর্শ, ক্ষোভ বা সমর্থন—সব কিছু লিখে রাখতে পারবেন।
পার্থ নিজে সেই বাক্স খুলে মানুষের কথা শুনবেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে এই উদ্যোগ কি তাঁর হারানো জমি ফেরত দিতে পারবে?
বেহালা পশ্চিম এখন তাকিয়ে—দীর্ঘদিন পর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উদ্ধার করতে পার্থর এই জনমুখী পথ কতটা কার্যকর হয়।