কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২০ নভেম্বর
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :
রাজ্যের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ জুগিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে ভরতপুরের তৃণমূল সাংসদ হুমায়ুন কবীর। দলের নানান সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন—“তৃণমূলে আর নয়”। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ৬ ডিসেম্বর তৃণমূলের সংহতি দিবসের জমায়েতে অনুপস্থিত থাকার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। একই দিন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে ঘোষণা করলেন হুমায়ুন।
৬ ডিসেম্বর—বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকী। সেই উপলক্ষে প্রতি বছর দেশজুড়ে বিভিন্ন সংগঠন কালা দিবস পালন করে থাকে। তৃণমূলও এই দিনটি সামনে রেখে কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির কাছে একটি বড় সংহতি সভার আয়োজন করেছে। দলের যুব, ছাত্র, সংখ্যালঘু—সব শাখা সংগঠনকে এই জমায়েতকে সফল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সাংগঠনিক নির্দেশ অমান্য করেই নিজের বিকল্প কর্মসূচির ঘোষণা করলেন হুমায়ুন।
তিনি জানান,
“১৯৯২ সালে আমাদের বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। আমরা সেই দিনটিকে কালা দিবস হিসেবে পালন করি। ঠিক করেছি, মুর্শিদাবাদেই বাবরি মসজিদ গড়ে তোলা হবে। একটি ট্রাস্ট তৈরি হবে। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব।”
এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আইএসএফ নেতা আব্বাস সিদ্দিকীকেও। রাজনৈতিক মহলে তাই জল্পনা—এ কি নতুন জোটের ইঙ্গিত?
বছর ঘুরতেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই সংখ্যালঘু রাজনীতিতে নতুন অক্ষ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
হুমায়ুন অবশ্য বলছেন,
“এটা আমার ব্যক্তিগত ধর্মীয় দায়িত্ব। তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে নয়, সংখ্যালঘু মানুষ হিসেবে এই কাজ করছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।”
প্রশ্ন হল দলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মন্তব্য করায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি ? অন্যদিকে দলের অভ্যন্তর সূত্র বলছে, জেলার কয়েকজন নেতা তাকে বহিষ্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু কালীঘাটের অবস্থান আলাদা।
দলের এক শীর্ষ নেতা স্পষ্ট বলেছেন—
“উনি যদি নিজে যেতে চান, যেতে পারেন। দল আলাদা করে কোনও গুরুত্ব দেবে না।”
এতে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ছে—
হুমায়ুন কি তবে ‘স্বেচ্ছা-বহিষ্কারের’ পথেই হাঁটছেন?
নতুন দল গঠনের যে ঘোষণা তিনি করেছিলেন, সেটাই কি এ বার বাস্তবায়নের পথে?
রাজ্যের রাজনীতিতে ৬ ডিসেম্বর তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে—একদিকে তৃণমূলের সংহতি সভা, অন্যদিকে হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ কর্মসূচি। দুই মঞ্চ—দুই বার্তা। নজর এখন রাজনৈতিক ফলাফলের দিকে।
৬ ডিসেম্বর। রাজ্যের রাজনৈতিক পঞ্জিকায় দিনটি যেন নতুন করে গুরুত্ব পেল। তৃণমূল ঠিক করেছে সংহতি সভা করবে। আর ঠিক সেই দিনই হুমায়ুন কবীর ঠিক করলেন—তিনি সেখানে থাকবেন না। তিনি যাবেন মুর্শিদাবাদে। যেখানে ১৯৯২-এর ক্ষতকে স্মরণ করে নতুন করে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
শুধু তিনি নন, সঙ্গে থাকবেন আব্বাস সিদ্দিকীর মতো প্রভাবশালী নেতা।
এই যুগল উপস্থিতিই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় তুলেছে।
দল তাকে বহিষ্কার করবে কি ?—এই প্রশ্নের জবাবও প্রায় নিশ্চিত।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাফ বার্তা—
“গুরুত্ব নেই। উনি চাইলে যেতে পারেন।”
এই সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে হুমায়ুনের আগের সেই মন্তব্য:
“২০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন দল গড়ব।”
তাহলে কি এই কর্মসূচিই সেই নয়া রাজনৈতিক যাত্রার প্রথম সিঁড়ি?
বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যের সংখ্যালঘু রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ কি তৈরি হচ্ছে?
গোটা রাজনৈতিক মহল এখন সেই উত্তর খুঁজছে।
Continue With Google
Comments (0)