কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৩ নভেম্বর

ভোটের আগে ফের নতুন বিতর্কে কলকাতা। এবার কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা পুলিশের পাঁচটি থানার সীমানা পুনর্বিন্যাস—আলিপুর, পার্ক স্ট্রিট, ওয়াটগঞ্জ, নিউ মার্কেট এবং একবালপুর। পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা সম্প্রতি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন, আর তাতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সীমানা বিন্যাস অনুযায়ী ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানার একটি বড় অংশ এখন আলিপুর থানার আওতায় এসেছে। এতে আলিপুর থানার পরিধি আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে, নিউ মার্কেট থানার কিছু অংশ পার্ক স্ট্রিট থানায় চলে এসেছে। ফলে এই বদলে কিছু এলাকা পোর্ট ও সেন্ট্রাল ডিভিশন থেকে সরে গিয়ে সাউথ ডিভিশনের অধীনে এসেছে।

প্রশাসনিকভাবে এটি পুলিশের কাজের সুবিধা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বিরোধীদের অভিযোগ—এই সীমানা বদলের পেছনে আছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

বিরোধী দলের দাবি, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে প্রশাসনিকভাবে ‘এক ছাতার তলায়’ আনা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন—

“ভবানীপুর নিয়ে তৃণমূল আতঙ্কিত। যদি স্বচ্ছভাবে ভোট হয়, তাহলে তৃণমূল সেখানে জিতবে না। থানার সীমানা বদল সেই ভয় থেকেই।”

বিরোধীরা মনে করছেন, নতুন সীমানা বিন্যাসে ভোটের সময় পুলিশের কন্ট্রোল আরও কেন্দ্রীভূত হবে, যা নির্বাচনী প্রভাব ফেলতে পারে।

তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন—

“এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। আইন–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।”

তৃণমূলের বক্তব্য, বিহার ও প্রতিবেশী রাজ্য থেকে অপরাধীরা ঢুকছে কলকাতায়, তাই পুলিশের কার্যক্ষমতা ও নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে এই সিদ্ধান্ত ‘টাইমিং’-এর জন্যই বিতর্কিত। কারণ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও প্রার্থী হতে পারেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই থানার সীমানা বদল কি কেবল প্রশাসনিক, না কি ভবানীপুরকে ঘিরে তৃণমূলের ভোট প্রস্তুতির অংশ?

লালবাজার এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে তর্ক শুরু হয়ে গেছে জোরকদমে।