কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৭ নভেম্বর

  https://youtu.be/imCGQF2cizM?si=HSRv3-s2_gNmjflK  

 ধনধান্য অডিটোরিয়ামের চারদিক আজ যেন সিনেমার মতো জেগে উঠেছিল আলোয়। উৎসবের গন্ধ, সিনেমা জগতের মানুষদের পদচারণা, আর চারপাশে গুঞ্জন—“শুরু হচ্ছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫।” সন্ধ্যার নরম আলোয় সূর্য ডুবতে ডুবতে যেন পুরো শহরটাই মিশে গেল এক চলচ্চিত্রের দৃশ্যে।

স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে শুরু হল চলতি বছরের এই মহাউৎসব। মঞ্চে সঞ্চালনায় ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও জুন মালিয়া, তাঁদের প্রাণবন্ত কণ্ঠে ধনধান্য যেন থরথর করে উঠল উৎসবের ছন্দে।

এই জমকালো আয়োজনের মধ্যেই ঘোষণা হল বছরের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত—বঙ্গবিভূষণ সম্মান। আর করতালির ঝড় উঠল, যখন এই সম্মানে ভূষিত হলেন দুই কিংবদন্তি—বলিউড তারকা শত্রুঘ্ন সিনহা এবং বাংলার গানের রাজকন্যা আরতি মুখোপাধ্যায়।

সম্মান প্রাপ্তির পর মঞ্চে উঠে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন,

“পাঁচ বছর ধরে আমি এই উৎসবে নিয়মিত আসছি। কখনও আমন্ত্রণের অপেক্ষা করিনি—নিজে থেকেই চলে এসেছি। বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারের খবরটা আমি একেবারেই জানতাম না। মুখ্যমন্ত্রী নিজে যখন আমাকে তা জানালেন, সত্যিই অভিভূত হয়েছি। এটা শুধু একটা পুরস্কার নয়, এটা সম্মানের চূড়ান্ত রূপ। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

আরতি মুখোপাধ্যায়ের আবেগভরা স্বীকারোক্তি

সঙ্গীতজগতের এই মহান শিল্পী বলেন,

“এই সম্মান আমি সম্পূর্ণ ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করেছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। বিশেষ করে তাঁর সংগীতপ্রেম আমাকে মুগ্ধ করে। যখন তাঁর হাত থেকে এই সম্মানটা নিচ্ছিলাম, আমি সত্যিই কেঁদে ফেলেছিলাম।”

সেই রাতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক রমেশ সিপ্পি, বাংলার গর্ব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, উৎসবের চেয়ারম্যান গৌতম ঘোষ, জনপ্রিয় তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, রঞ্জিৎ মল্লিক, দেব, কোয়েল মল্লিক, সুজয় ঘোষ, তিলোত্তমা সোম প্রমুখ। যেন এক বাস্তব সিনেমা—একই মঞ্চে বাংলা ও বলিউডের সব প্রজন্মের তারকা।

মঞ্চে তখন আলো-ছায়ার খেলা। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্যে মিশে গেল সুর, তান, আর মাটির গন্ধ। সেই সঙ্গে ভেসে এল এক হৃদয়স্পর্শী গান—

“এসো মনের দরজা খোলো, এসো এখনই আলো জ্বালো”—
যার গীতিকার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক রাজনীতিকের মঞ্চ থেকে শিল্পীর আত্মপ্রকাশ—এই সন্ধ্যা হয়ে রইল কলকাতার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।

এই উৎসব শুধু সিনেমার প্রদর্শনী নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,

“সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটা মানুষের মনের প্রতিবিম্ব। বাংলার মাটি শিল্পীদের ভালোবাসা দিয়ে বাঁচে, এই উৎসব সেই আবেগেরই উৎসব।”

ধনধান্যের বাইরে তখন দর্শকদের ভিড়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ অপেক্ষা করছেন প্রিয় তারকাকে দেখার জন্য। কলকাতা যেন আবার নিজের চেনা উৎসবের রঙে ফিরে পেল প্রাণ।