কলকাতা টাইমস নিউজ  :কলকাতা :২৫ নভেম্বর

  বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :

তৃণমূলের সংগঠনচিত্রে ফের কড়াকড়ি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সোমবারের পর্যালোচনা বৈঠকে কার্যত কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।২৫ হাজার নেতা–কর্মী হাজির সেই বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— এখন আর সময় নেই। ভুল করলে চলবে না। ভোট চুরি রুখতে মাঠে নামতেই হবে।

বৈঠকের শুরুতেই অভিষেক জানান বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) সক্রিয়তা কতটা কম, কোথায় কাজ বন্ধ হয়ে আছে। একেবারে নাম ধরে ধরে বলে দেন— কোন কোন বিধানসভায় অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।

সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ৮ বিধানসভা:

  • বালিগঞ্জ – ৩৪%

  • বনগাঁ দক্ষিণ – ৩৩%

  • বেলেঘাটা – ৩১%

  • এন্টালি – ৩০%

  • মধ্যমগ্রাম – ২৯%

  • কলকাতা বন্দর – ২২%

  • কাশীপুর–বেলগাছিয়া – ২৪%

  • চৌরঙ্গি – ২৮%

এদের মধ্যে অন্তত ছয়টি কলকাতার। তিনটি আবার মন্ত্রিসভার মুখ— বাবুল সুপ্রিয়, ফিরহাদ হাকিম (ববি), রথীন ঘোষ। ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের বিধানসভা কাশীপুর–বেলগাছিয়াও নিচের সারিতে। অন্যদিকে ধনেখালি ও হরিপাল বিধানসভা শীর্ষে। ধনেখালিতে অসীমা পাত্রের সংগঠনের দক্ষতা— ১০০% BLA সক্রিয়তা। সিঙ্গুর, করণদিঘি, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, রায়গঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, তারকেশ্বর— এগিয়ে থাকা তালিকায়। বেচারাম মান্না ও তাঁর স্ত্রী করবী মান্নার নেতৃত্বে সিঙ্গুর–হরিপালের উন্নতি বিশেষ নজর কাড়ে।

অপরদিকে অভিষেক জানান— অনেক জায়গায় BLAরা কাজ করছেন, কিন্তু অ্যাপে আপডেট করছেন না। ফলে দল তথ্য পাচ্ছে না। এ বিষয় অভিষেকের বক্তব্য—

“ওরা ভোট চুরি করতে নেমেছে, আমরা সেই চুরি ধরব। তথ্য না দিলে চলবে না।”

যদি কেউ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় পারদর্শী না হন, তবে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলেও চলবে— কিন্তু তথ্য জমা পড়তেই হবে।

উল্লেখ ১৩ নেতাকে জেলায় পাঠানোর নির্দেশ – ‘ব্যাগ গুছিয়ে ৯ দিনের জামাকাপড় নিন’ আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত SIR পর্যায়ের প্রথম পর্ব চলবে। এই সময়ের মধ্যে গতি আনতে ১৩ জন নেতাকে সরাসরি জেলায় পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে অভিষেক স্পষ্ট বলেছেন—

“পার্টি অফিসে বসে থাকবেন না। ওয়ার রুমে ঢুকুন। বিধানসভা চষে ফেলুন।”

কে কোন জেলায় যাচ্ছেন কোন নেতা ?

  • অরূপ বিশ্বাস – হুগলি + দুই বর্ধমান

  • স্নেহাশিস চক্রবর্তী – কৃষ্ণনগর, রানাঘাট

  • মানস ভুঁইয়া – বাঁকুড়া, পুরুলিয়া

  • মলয় ঘটক – পশ্চিম মেদিনীপুর

  • সামিরুল ইসলাম – উত্তর দিনাজপুর, মালদহ

  • প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় – দক্ষিণ দিনাজপুর

  • প্রদীপ মজুমদার – পশ্চিম বর্ধমান

  • সুজিত বসু – বনগাঁ, বসিরহাট, রানাঘাট

  • বেচারাম মান্না – পূর্ব মেদিনীপুর

  • দিলীপ মণ্ডল – কোচবিহার

  • চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য – ঝাড়গ্রাম

  • ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় – মুর্শিদাবাদ

  • উদয়ন গুহ – জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার

কলকাতার দায়িত্ব ফিরহাদ হাকিমের (ববি) হাতে।

 অন্যদিকে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল বনাম কাজল শেখ গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে অভিষেকের কড়া মন্তব্য

“একই বাড়িতে থাকলে ঝগড়া হয়। কিন্তু বাড়িটাই না-থাকলে যাবেন কোথায়?” তাই দলাদলি নয়, ঐক্যের বার্তা— বীরভূমকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

বার্তা স্পষ্ট— এখন আর অভ্যন্তরীণ লড়াই চলবে না। অভিষেক স্পষ্ট বলেন -‘এটা যুদ্ধ’— ১৫০ দিনের লড়াই ঘোষণা

  • এবার ভোট শুধু তিন মাসের নয়— ছয় মাসের যুদ্ধ

  • তার মধ্যে এক মাস পেরিয়ে গেছে

  • আগামী ১৫০ দিন মাঠে থাকতে হবে

  • ১০০% এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়তেই হবে

এটাই ভবিষ্যতে দলের পদে থাকা–না-থাকা নির্ধারণ করবে।

পাশাপসী সাংসদদের বিশেষ মিশন: দিল্লিতে স্মারকলিপি জমা দিতে হবে ১০ জন সাংসদের নাম ঘোষণা করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—গত ২০ দিনে তৃণমূল যে সব অভিযোগ জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ নেয়নি কেন - সেই রিপোর্ট চাইতে হবে।

সুইসাইড নোট নিয়ে আত্মঘাতী হওয়া কয়েকজন BLO–র ঘটনা নিয়েও কমিশনের কাছে জবাব চাওয়া হবে।

অপরদিকে কলকাতাকে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ,কলকাতার উত্তর–দক্ষিণ দু’দিকেই SIR-এর কাজ মন্থর।অভিষেক ববি ও অরূপ বিশ্বাসকে পৃথকভাবে ডেকে কথা বলেন।
মঙ্গলবার কলকাতার বিধায়ক–কাউন্সিলরদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

একইসাথে অভিষেক জানিয়ে দেন—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি ১৫ দিনে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইছেন। ৬ ডিসেম্বর নতুন রিপোর্ট যাবে। কোন কোন নেতা নিষ্ক্রিয়— নাম করে বলে দেন অভিষেক : মলয় ঘটক ও মনোজ তিওয়ারি । 

বৈঠকের শেষে অভিষেকের বলেন এটা আর কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, ভোট–যুদ্ধের প্রস্তুতি।ভোটার তালিকার প্রতিটি নামই আগামী নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ।তাই এই মুহূর্তে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে—দল হোক ঐক্যবদ্ধ, সংগঠন হোক সক্রিয়, আর মাঠের লড়াই হোক নির্ভুল।