কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :১৯মার্চ ২০২৬

ভোটের মুখে রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে জোরদার তৎপরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ‘বিচারাধীন’ বা আন্ডার অ্যাজুডিকেশন তালিকাভুক্ত ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, আর সেই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে প্রতি শুক্রবার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে এই ইঙ্গিত মিলেছে।

বর্তমানে রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটার ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটারের নথি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এই বিশাল প্রক্রিয়ার মধ্যেই সামনে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—যাচাই হওয়া নথির মধ্যে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসাররা। ফলে সেই সব নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ এবং বাদ পড়া ভোটারদের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই ঠিক হতে পারে—প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে প্রকাশিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে নিয়মিত আপডেট করা হবে। সম্ভাবনা রয়েছে, শুক্রবার বা শনিবারই প্রথম তালিকা প্রকাশ পেতে পারে। এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে, বিশেষত প্রতি শুক্রবার, নতুন করে নিষ্পত্তি হওয়া নামগুলি প্রকাশ করা হতে পারে।

এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে কোন কোন ভোটারের নাম গ্রহণ করা হয়েছে এবং কারা বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ যাঁদের নথি গ্রহণযোগ্য হয়নি, তাঁদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হবে। তবে তাঁদের জন্য আইনি লড়াইয়ের সুযোগও রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই ‘ফেল’ করা ভোটারদের আবেদন শোনার জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা চলছে।

সূত্রের খবর, এই ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নিতে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক সম্মতি জানিয়েছেন। তবে এই ট্রাইব্যুনাল কবে থেকে কাজ শুরু করবে, কোথায় এর দপ্তর হবে এবং কীভাবে সাধারণ মানুষ সেখানে আবেদন জানাতে পারবেন—এই সমস্ত বিষয় নিয়েই আজকের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে নথি যাচাইয়ের গতি অনেকটাই বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষ ভোটারের নথি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এই দ্রুততার পিছনে রয়েছে ভোটের আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের চাপ। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে—যাঁরা রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের নামও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে।

এই বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, নথির নিষ্পত্তি না হলে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম এই তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সূত্রের দাবি, প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যাচাইয়ের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকের নথি ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই ব্যাপক যাচাই প্রক্রিয়া রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ বলেই দাবি করছে কমিশন। তবে একইসঙ্গে এত বড় সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। এখন নজর থাকবে, আজকের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয় এবং প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।