কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :০৯ ডিসেম্বর
কসবার শান্ত, সাধারণ আবাসিক এলাকার এক ফ্ল্যাট থেকে সোমবার উদ্ধার হল ৬৪ বছরের এক বাসিন্দার নিথর দেহ। মৃত ব্যক্তির নাম সুমিত সেন। দীর্ঘ তিন দিন ধরে পড়শিরা পরিবারের কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলেন না। বাড়ির দরজা বন্ধ, আলো–আঁধারি অস্বাভাবিক নীরবতা—সব মিলিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল স্থানীয়দের কপালে। অবশেষে সন্দেহ দানা বাঁধতেই খবর যায় থানায়।
পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে কসবা থানার একটি দল সোজা পৌঁছে যায় বেসপুকুর এলাকার ওই আবাসনে। দরজা খুলতেই দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সুমিতবাবু। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেহ উদ্ধারের সময় ফ্ল্যাটেই উপস্থিত ছিলেন মৃতের স্ত্রী ও মেয়ে। পুলিশ জানিয়েছে—মেয়েটি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ। পরিবারের আচরণও ছিল কিছুটা অন্তর্মুখী। দিনের বেশির ভাগ সময়ই তিন জন ফ্ল্যাটবন্দি থাকতেন, বাইরে দেখা যেত খুব কমই।
স্থানীয়দের দাবি, তিন দিন ধরে পরিবারের কাউকে দেখা না পাওয়াতেই সন্দেহ বেড়ে যায়। কারও সাড়া না পেয়ে অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, সুমিতবাবু একটি প্রাইভেট সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তবে চাকরির চাপ, নাকি কোনও শারীরিক সমস্যা—মৃত্যুর আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পরিবারের উপর নজর রাখা হচ্ছে, পাশাপাশি ফ্ল্যাট ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা। বহু প্রশ্ন ভাসছে ঘোর অস্বস্তির মেঘে—হঠাৎ এমন মৃত্যু কেন? তিন দিন ধরে কেউ সাড়া না দিলে পরিবারের অন্য সদস্যরা কী অবস্থায় ছিলেন? সব দিকই এখন খতিয়ে দেখছে কসবা থানার তদন্তকারীরা।
Continue With Google
Comments (0)