তাহেরপুরের মাঠে শনিবার দুপুরে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য। বহু দিনের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক তৎপরতা, নিরাপত্তা বলয়—সবই তৈরি ছিল। কিন্তু শেষমেশ ‘ভিলেন’ হয়ে দাঁড়াল প্রাকৃতিক কারণ—অদম্য কুয়াশা। আবহাওয়ার বৈরিতায় প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার তাহেরপুরে নামতে না পারায় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফর শেষ মুহূর্তে বদলে গেল। জনসভাস্থল থেকে বহু দূরে, কলকাতা বিমানবন্দরেই আটকে রইলেন মোদী।
এ দিন নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দমদম বিমানবন্দর থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তাহেরপুরের আকাশে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, নিরাপত্তার খাতিরে হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হয়নি। মাঝপথ থেকেই ফিরে আসতে হয় প্রধানমন্ত্রীর কপ্টারকে।
ফের দমদমে অবতরণের পর প্রশাসনিক মহলে শুরু হয় বিকল্প পথ নিয়ে তৎপর আলোচনা—প্রধানমন্ত্রীকে কি সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হবে ?
তাহেরপুর পৌঁছতে হলে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হত প্রধানমন্ত্রীকে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনায় বসে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ছিল প্রথম পছন্দ। পাশাপাশি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ককেও ‘ব্যাকআপ রুট’ হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়। জেলা ট্রাফিক পুলিশ, এসপিজি এবং রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা আধিকারিকেরা রুট ম্যাপ পর্যালোচনা করেন।
সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা বলয় সুসংহত করা কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বাতিল হয় সশরীর সফর।
প্রধানমন্ত্রী না এলেও জনসভা থামেনি। কলকাতা থেকেই অডিয়ো বার্তায় তাহেরপুরের জনতাকে সম্বোধন করেন মোদী। প্রশাসনের তরফে বিশেষ সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে তাঁর বক্তব্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায় জমায়েতের কাছে। জনসাধারণের হতাশা থাকলেও বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছে সরকার—এমনটাই দাবি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের।
যদিও মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। বিধানসভা ভোটের আগে এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে আবহাওয়াজনিত কারণে এই বাধা শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল ও বিজেপির তরফে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের শীতকালের আবহাওয়ার ঝুঁকি আগাম অনুমান করে কি আরও প্রস্তুতি নেওয়া যেত ? তবে সরকারি সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি মুহূর্তে খারাপ হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থার সময় খুবই সীমিত ছিল।
Comments (0)