কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২০ ডিসেম্বর

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার জেরে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির পাশাপাশি কলকাতাতেও নিরাপত্তা বাড়াল লালবাজার। উৎসবের মরসুমে পার্ক স্ট্রিট থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ, গেস্ট হাউস—যেখানে ভিড় বাড়ার আশঙ্কা, সেখানে নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে। বড়দিন ও বর্ষবরণকে ঘিরে শহরজুড়ে যে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতির প্রভাবও যে যুক্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, রাজনৈতিক সহিংসতা ও জনতার ক্ষোভ রীতিমতো উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির। ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার আঁচ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও পৌঁছতে পারে—এই ধারণা থেকেই কলকাতা পুলিশ শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলি চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়িয়েছে।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের দক্ষিণ, মধ্য, উত্তর—সব ডিভিশনেই বিশেষ গশতি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পার্ক স্ট্রিট অঞ্চল, ধর্মতলা, নিউ মার্কেট, সল্টলেক ও কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ জারি হয়েছে।

প্রতি বছরই বড়দিনের সপ্তাহে পার্ক স্ট্রিটের মতো এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। এবার সেই উৎসবের ভিড়কে নিরাপদ রাখতেই পুলিশ গোটা এলাকায় বাড়তি লাইট টাওয়ার, নাকা চেকিং, টহল গাড়ির সংখ্যা বাড়িয়েছে।

হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাব, গেস্ট হাউসগুলিতেও নজরদারি বেড়েছে। পরিচয়পত্র যাচাই, লাগেজ পরীক্ষা, সিসিটিভি সক্রিয়করণ—সব জায়গাতেই কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানান,“২৫ ডিসেম্বর বড়দিন ও বর্ষবরণের রাত সামনে। তাই পার্ক স্ট্রিট-সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। রাতের টহলও বাড়ানো হয়েছে।”

অপরদিকে সম্প্রতি সল্টলেক স্টেডিয়ামে Lionel Messi-র ইভেন্ট ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশের ভিতরে চাপা সমালোচনা চলছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বলয়ের গাফিলতি—সবই উঠে এসেছিল আলোচনায়।

এই প্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার জানান, ইডেন গার্ডেনসে আসন্ন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যেন কোনওরকম নিরাপত্তা ঘাটতি না থাকে, তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
সল্টলেকের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই ভিড় ব্যবস্থাপনা আঁটসাঁট করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও স্পর্শ করেছে। পুলিশের সমস্ত ইউনিট—ডিটেকটিভ বিভাগ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ট্রাফিক, কমব্যাট ফোর্স—সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ চিহ্নিত করা

  • সীমান্তবর্তী জেলাগুলির সঙ্গে সমন্বয় জোরদার

  • যোগাযোগ ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি

  • পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত ইউনিফর্মড ও সিভিল পুলিশ

এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে।

একসাথে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে মনোজ ভার্মা বলেন,
“কলকাতা পুলিশ শুধু অপরাধ দমনেই নয়, খেলাধুলোতেও সমানভাবে পারদর্শী।” তিনি জানান, উৎসবের মরসুমে শহরবাসীর নিরাপত্তাই পুলিশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।