কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১৭ নভেম্বর
সল্টলেকের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হস্টেলের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উঠল প্রশ্ন। হস্টেলের আশেপাশে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ঘোরাফেরা ও আবাসিক ছাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গির অভিযোগে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, কর্তৃপক্ষ—সবার মধ্যেই। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, গত ১১ নভেম্বর গভীর রাতে—রাত দেড়টা নাগাদ—এক ব্যক্তি হস্টেলের পিছন দিকের পার্কে এসে প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের দিকে অশালীন আচরণ করতে শুরু করে।
আতঙ্কিত ছাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গে সিনিয়রদের খবর দেন। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, এবং সন্দেহ করা হচ্ছে—দোষী ব্যক্তি সেই একই। আগেরবারও বিষয়টি হস্টেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি আবাসিকদের।
এক আবাসিক ছাত্রী জানান,
“রাত দেড়টার সময় ঘটনা ঘটে। রাত দু’টো নাগাদ দায়িত্বপ্রাপ্তকে খবর দিই। তিনি তখনও ঘর থেকে বেরোলেন না। বারবার অনুরোধের পরে পুলিশকে ফোন করা হয়।”
অন্য এক ছাত্রীর অভিযোগ,
“হস্টেল কর্তৃপক্ষ বলেছে—আমরাই নাকি কোনওভাবে ওই মানুষটিকে উৎসাহ দিচ্ছি! এমন কথা শুনে আরও ভয় পেয়ে যাই। তাহলে কি বড় কোনও ঘটনা না ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ: বাড়বে সিসিটিভি নজরদারি
ঘটনা জানাজানি হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফ স্টুডেন্টস অরুণ মাইতি দ্রুত তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান—
-
হস্টেলের চারপাশে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে বিশেষ করে পিছনের অংশ ও কোণাগুলিতে।
-
সুইমিং পুল সংলগ্ন দেওয়াল অ্যাসবেস্টস দিয়ে ঢেকে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।
-
হস্টেলের চারদিকের ফেন্সিং শক্তিশালী করা হবে।
-
স্থানীয় থানাকে ঘনঘন টহলদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বর্তমানে প্রবেশপথ ও ক্যান্টিন মিলিয়ে হস্টেলে ৮টি সিসিটিভি রয়েছে। প্রশাসন মনে করছে, নতুন ক্যামেরা লাগালে নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে।
শনিবার পুলিশ হস্টেলে গিয়ে ছাত্রী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে।
তদন্তকারীরা জানতে চান—
-
কোনও ছবি বা ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল কি না
-
আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে কী পাওয়া যায়
পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তার ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা যায়। তবে ছাত্রীদের অভিযোগ—পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
ছাত্রীরা মনে করছেন, আগের অভিযোগ গুরুত্ব না পাওয়ায় সমাজবিরোধীর সাহস বেড়েছে। তাঁদের বক্তব্য—
“একাধিকবার জানিয়েও যদি যথাযথ পদক্ষেপ না হয়, তা হলে বিপদ বাড়তেই থাকবে।”
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি এবং দোষীর গ্রেফতার—এই দুই দাবিই এখন সবচেয়ে জরুরি।
Continue With Google
Comments (0)