কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :১৫ জানুয়ারি ২০২৬

কলকাতার এক অভিজাত পাড়ায় বুধবার ছিল খানিকটা আলাদা ব্যস্ততা। বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক -এর বাড়িতে হাজির হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী । সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ma। উপলক্ষ—রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরা বিশেষ বুকলেট ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পৌঁছে দেওয়া।

রাজ্য সরকারের ১৫ বছরের কাজ, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি থেকে পরিকাঠামো—এই সব উন্নয়নের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর  সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা ও জেলার মোট প্রায় ১৬০০ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ইনফ্লুয়েন্সারের হাতে এই কিট তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই দায়িত্বই পেয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়করা।

রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,“বাংলা সিনেমায় ওঁর অবদান এমন, যা আগামী কয়েক শতাব্দী স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আজ মূলত সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতেই ওঁর কাছে এসেছি। সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কী কাজ হয়েছে, সেই বিষয়গুলোই এই সৌজন্য সাক্ষাতে তুলে ধরা হয়েছে।”

অভিষেকের কথায় স্পষ্ট, এই উদ্যোগ কোনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং বিশিষ্ট মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সরকারের কাজের তথ্য তুলে ধরার প্রয়াস।

সাংবাদিকদের সামনে আলাদা করে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাননি রঞ্জিত মল্লিক। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে হাত রেখে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
“ওঁকে আমার খুব ভালো লাগে, শুধু এটুকুই বলব।”

বর্ষীয়ান অভিনেতার এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কিটে রয়েছে—

  • মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত চিঠি

  • ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের প্রকল্প ও উন্নয়নের পরিসংখ্যান

  • সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত তথ্য

  • গ্রাম থেকে শহর—উন্নয়নের সামগ্রিক চিত্র

কলকাতায় প্রায় ২০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং জেলায় জেলায় আরও ১৪০০ জনের হাতে এই কিট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ শুধু একটি বুকলেট নয়, বরং রাজ্য সরকারের উন্নয়ন-বার্তা সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল। বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সেই বার্তাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যই এই উদ্যোগের মূল কথা।