কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১৭ নভেম্বর

দীর্ঘদিনের আন্দোলন, টানাপোড়েন, আইনি লড়াই—সবকিছুর শেষে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেল রাজ্যের বেসরকারি বাস-মালিকরা। গত কয়েক বছরে বয়সজনিত কারণে যেসব পুরোনো বাস রাস্তায় নামতে পারেনি, সেগুলিকে ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করলে ফের চলার ছাড়পত্র মিলতে পারে। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর জমা দেওয়া নতুন খসড়া বিজ্ঞপ্তি এই দিকেই এগোনোর ইঙ্গিত দিল।

দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ছিল, ১৫ বছরের বেশি পুরোনো বাস কি রাস্তায় চলতে দেওয়া উচিত? দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ একসময় সব পুরোনো বাসই বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আধুনিক নির্গমন প্রযুক্তি, রেট্রোফিটিং, সিএনজি-তে রূপান্তর, এবং উন্নত ফিটনেস পরীক্ষার ব্যবস্থার পরে রাজ্য নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—

“বয়স নয়, যানবাহনের স্বাস্থ্যই প্রধান বিবেচ্য। ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করলে ১৫ বছরের বাসও রাস্তায় চলতে পারবে।”

হাইকোর্টও তাতে সম্মতি জানানোয় আনন্দিত বাস-মালিক সংগঠনগুলি।

তবু প্রশ্ন রয়ে গেল—‘১৫ বছর’ গণনা কোন তারিখ থেকে ?

গত দুই বছরে বসিয়ে দেওয়া বাস কি ফিরতে পারবে?**

বাস-মালিকদের মূল দুই প্রশ্ন:

  1. ১৫ বছরের সীমা কোন বছর-মাস থেকে গণনা করা হবে? রেজিস্ট্রেশনের দিন থেকে, নাকি ম্যানুফ্যাকচারিং তারিখ থেকে—এ বিষয়ে নোটিফিকেশনে স্পষ্টতা নেই।

  2. যে বাসগুলোকে আগেই ‘বয়স’ দেখিয়ে রাস্তা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো কি পুনরায় ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করে চলতে পারবে?

পরিবহণ দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রশ্নগুলির উত্তরও দ্রুত স্পষ্ট করা হবে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সিদ্ধান্তই ঘুরিয়ে দিল মোড়

যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ একসময় সরাসরি পুরোনো বাস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল, তারাই এখন জানাচ্ছে—

“বাসের স্বাস্থ্য ও নির্গমনমাত্রা ঠিক থাকলে বয়স কোনও বাধা নয়।”

হাইকোর্টও আগেই বলেছিল,

“১৫ বছর হলেই কোনও গাড়িকে অটোমেটিক স্ক্র্যাপ ঘোষণা করা যায় না।”

বাস-মালিকদের মতে, আদালতের এই পর্যবেক্ষণই বাস্তব সমাধানের পথ খুলে দিয়েছে।

পুরোনো নীতি আজ ‘অচল’! প্রযুক্তির উন্নতিতে বদলেছে হিসাব

২০০৮ ও ২০১২ সালের নীতিগুলিকে পরিবহণ দপ্তর ‘অচল’ বলে মেনে নিয়েছে। কারণ—

  • তখন নির্গমন প্রযুক্তি সীমিত ছিল

  • সিএনজি বা রেট্রোফিটিং প্রচলিত ছিল না

  • Bharat Stage মানদণ্ড এত কঠোর ছিল না

  • বাসের আসল দূষণ কত হচ্ছে—তা পরীক্ষা করা হতো না

আজকের উন্নত প্রযুক্তি সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।

নোটিফিকেশনে পরিবহণ দপ্তর স্বীকার করেছে—

  • পুরোনো বাস বন্ধ হওয়ায় শহরে বাসসংখ্যা কমেছে

  • অতিরিক্ত ভিড়, যাত্রীদের নিত্য অসুবিধা

  • বহু মালিক আর্থিক চাপে নতুন বাস কিনতে পারেননি

  • ড্রাইভার, কন্ডাক্টর, মেকানিক, গ্যারাজ-কর্মীদের জীবিকা হুমকির মুখে

এ অবস্থায় ১৫ বছরের বেশি পুরোনো বাস শর্তসাপেক্ষে ফিরলে পরিবহণ শিল্প কিছুটা অক্সিজেন পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নতুন খসড়া অনুযায়ী,

  • কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় রেজিস্টার্ড বাস ১৫ বছর পার হলেও চলতে পারবে

  • তবে বছরে দু’বার ফিটনেস টেস্ট বাধ্যতামূলক

  • দূষণমাত্রা ২০১৯ সালের সীমার নিচে থাকতে হবে

  • ফিটনেসে ব্যর্থ হলে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা

সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেস-এর সাধারণ সম্পাদক টিটো বসু ও সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন—

“পরিবহণ দপ্তরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই সিদ্ধান্তে বহু কর্মী উপকৃত হবেন, শিল্পও টিকে থাকবে।”