কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৩ ডিসেম্বর

শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে লাগেজ গুছিয়ে পাহাড়ে ওঠার প্রস্তুতি—দার্জিলিং ভ্রমণের এই চেনা ছবি কি এবার বদলে যেতে চলেছে? কুয়াশা-মোড়া সর্পিল পাহাড়ি রাস্তার রোমাঞ্চের মাঝেই ভেসে উঠছে নতুন আশঙ্কা। পাহাড় ও সমতলের গাড়ি চালকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা বিরোধ এবার প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। আর তার জেরে সমস্যায় পড়তে পারেন পর্যটকেরা।

সমতলের গাড়ি চালকদের সংগঠন জানিয়েছে, সোমবার থেকে পাহাড়ের গাড়ি চালকদের শিলিগুড়ি থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার Gorkhaland Territorial Administration (GTA)-র প্রধান ও পাহাড়ের পরিবহণ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে ততদিনে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—তা নিয়েই উদ্বেগ।

এতদিন ধরে পাহাড়ের গাড়ি চালকেরা New Jalpaiguri, Bagdogra, শিলিগুড়ি জংশন ও দার্জিলিং মোড় থেকে পর্যটক তুলতেন। আগাম বুকিং থাকলে শহরের বিভিন্ন হোটেল থেকেও যাত্রী নেওয়া হতো। এখন সেই জায়গাতেই আপত্তি তুলছেন সমতলের চালকেরা।

তাঁদের দাবি—পাহাড়ের চালকেরা সমতলে নেমে যাত্রী তুললে তাঁদের রুজিরোজগারে টান পড়ছে। পাল্টা পাহাড়ের চালকদের অভিযোগ, সমতলের চালকেরা পাহাড়ে ঢুকে টাইগার হিল, রক গার্ডেন বা পিস প্যাগোডার মতো জায়গায় পর্যটকদের ঘোরাচ্ছেন, এতে পাহাড়ি চালকদের আয় কমছে।

উত্তেজনা আরও বেড়েছে রবিবার রাতে দার্জিলিংয়ের হোটেল ব্যবসায়ীদের এক বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে। তাতে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের Tiger Hill-এ সূর্যোদয় দেখাতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তাঁরা নিতে পারবেন না। পর্যটকদের নিজেদের উদ্যোগেই সেখানে যেতে হবে।

এর আগে পাহাড়ের চালকেরা ঘোষণা করেছিলেন, তাঁরা আর টাইগার হিলে পর্যটকদের নিয়ে যাবেন না। ফলে সূর্যোদয় দর্শন—দার্জিলিং ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ—নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সমতলের গাড়ি চালকদের দাবি, পাহাড়ে উঠলেই নির্জন ও ফাঁকা রাস্তায় তাঁদের গাড়ি দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে সমতলের চালক সংগঠনের পক্ষে Debashis Maitra বলেন,
“মঙ্গলবার থেকে পাহাড়ের চালকদের সমতল থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হবে না। পাহাড় থেকে যাত্রী নামাতে পারবেন। কিন্তু যদি আমাদের চালকদের হেনস্থা বন্ধ না হয়, তা হলে যাত্রী নামানোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমরা সংঘাত চাইনি, কিন্তু বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত।”

এই টানাপোড়েনের জেরে শিলিগুড়ি–দার্জিলিং রুটে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনিক মহল ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কারণ, শীতের মরসুমে পাহাড়ে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। সেই সময় যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে পর্যটন শিল্পে।

GTA-র তরফে পাহাড়ের চালকদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সমাধান সূত্র না-খুঁজে পেলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে।

এই মুহূর্তে পাহাড়ে যেতে ইচ্ছুক পর্যটকদের জন্য পরামর্শ—

  • আগাম পরিবহণ বুকিং নিশ্চিত করা

  • হোটেল ও ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা

  • হঠাৎ পরিস্থিতি বদলালে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা

পাহাড় আর সমতলের এই দড়ি টানাটানি শুধু চালকদের রুটি–রুজির লড়াই নয়—এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের উপর। দার্জিলিংয়ের মতো পর্যটননির্ভর অঞ্চলে এই সংঘাত দ্রুত মেটানো না গেলে ক্ষতি হবে সকলেরই। এখন নজর মঙ্গলবারের বৈঠকের দিকে—সেখানেই কি মিলবে সমাধানের রাস্তা ?