কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১১ ডিসেম্বর
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিমোট টিপে শুরু করবেন পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ দফা, যার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২০,০৪৭৯টি নতুন রাস্তা তৈরির কাজ একযোগে শুরু হবে। মোট দূরত্ব প্রায় ২০,০৩০ কিলোমিটার—যা পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ।
মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ২১,৯৮৭ কোটি টাকা। ভোটের আগে এই বিশাল প্রকল্প ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
কোথায় কত রাস্তা ? বিশদ খতিয়ান
১. পঞ্চায়েত দফতরের আওতায় সর্বাধিক কাজ
-
রাস্তার সংখ্যা: ৯,১১৪টি
-
মোট দূরত্ব: ১৫,০১১ কিলোমিটার
-
ব্যয়: ৬,৯৮৭ কোটি টাকা
গ্রামীণ পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতেই মূলত পঞ্চায়েত দফতরের অধীনে এই ব্যাপক রাস্তাকাজ পরিকল্পনা করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর রিমোট টেপার সঙ্গে সঙ্গেই এই কাজগুলির বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে।
২. শহরাঞ্চলে কেএমডিএর অধীনে রাস্তাকাজ
-
রাস্তার সংখ্যা: ১১,৩৬৫টি
-
দূরত্ব: ৫,০১৯ কিলোমিটার
-
ব্যয়: ১,৫০০ কোটি টাকা
-
কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময়: জানুয়ারি ২০২৫
কেএমডিএ–র অধীনে মূলত নগর পরিকাঠামো উন্নয়ন, যানবাহন চলাচলে সুবিধা এবং সংযোগ বাড়ানোই লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে সরকারি সভায় উপস্থিত থেকে ডিজিটালি উদ্বোধন করবেন প্রকল্পটি। মঞ্চে থাকবেন—
-
মুখ্যসচিব
-
পঞ্চায়েত দফতরের শীর্ষকর্তা
-
জেলা প্রশাসন
রাজ্যের সব জেলার জেলা শাসকরাও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত থাকবেন। প্রকল্পের আকার ও বিস্তৃতি বিচার করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কয়েক পর্যায়ে।
প্রসঙ্গত আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল—গ্রামীণ রাস্তাশ্রী ও পথশ্রীর অধীনে যে রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এবার বাস্তবায়নের পথে। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রাস্তার উন্নয়ন, দুর্গম এলাকায় সংযোগ বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানো—সবকিছুর উপরই এই প্রকল্প সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার পরিকাঠামো উদ্যোগ—স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একদিকে শাসকদলের বক্তব্য—“এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো উন্নয়ন। সাধারণ মানুষের জন্য কাজই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি—নির্বাচনের আগে এত বড় ঘোষণা আসলে ভোটারদের খুশি করার প্রচেষ্টা।
তবে বাস্তবিক দিক থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পরিবহন, গ্রামোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করেন পরিকাঠামো বিশেষজ্ঞরা।
পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্পের এই পর্ব শুধু রাস্তা নির্মাণের সংখ্যার দিক থেকে নয়—অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের দিক থেকেও নজিরবিহীন। ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে রাজ্যের উন্নয়নকে সামনে এনে রাজনৈতিক পরিসরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।
Continue With Google
Comments (0)