কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৭ নভেম্বর

রাজ্য পুলিশের কাঠামোয় ফের বড় reshuffle। একসঙ্গে ১৭৫ জন পুলিশ অফিসারের বদলি ঘোষণা করেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। সোমবার, ২৬ নভেম্বরের অফিসিয়াল নোটিসে বলা হয়েছে—“পরিষেবার স্বার্থে এই রদবদল অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।” নোটিস প্রকাশের পরই জেলা পুলিশ প্রশাসনে নড়াচড়া শুরু হয়েছে।

এই তালিকায় বীরভূম জেলার ৯ জন ইন্সপেক্টর রয়েছেন—যাদের মধ্যে কয়েকজন সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনার পর থেকেই পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
যেমন—

  • বোলপুরের আইসি লিটন হালদার, যাঁর নাম অনুব্রত মণ্ডলের ভাইরাল অডিও-কাণ্ডে সামনে এসেছিল।

  • রামপুরহাটের আইসি সুকোমল ঘোষ, যে এলাকায় আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল।

  • সিউড়ি থানার সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পরেও আবার বদলি হলেন আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।

বদলির তালিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জল্পনা শুরু হয়েছে—কিছু জায়গায় ঘটনার পর প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়ানোই কি এর কারণ?

বীরভূমের বদলি হওয়া ৯ জন অফিসারের তালিকা

১. সমিত মণ্ডল, ইন্সপেক্টর MPB বীরভূম
২. তপাই বিশ্বাস, ইন্সপেক্টর রামপুরহাট ট্রাফিক গার্ড (অতিরিক্ত দায়িত্ব: সাঁইথিয়া থানার ইনচার্জ)
৩. সৌম্য দত্ত, আইসি সাইবার ক্রাইম
৪. চয়ন ঘোষ, সিআই চন্দ্রপুর (অতিরিক্ত দায়িত্ব: সিউড়ি থানার আইসি)
৫. দীনেশ কুমার মণ্ডল, সিআই বোলপুর
৬. লিটন হালদার, আইসি বোলপুর
৭. সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, আইসি সিউড়ি
৮. সুকোমল ঘোষ, আইসি রামপুরহাট
৯. এসকে এমডি আলি, ইন্সপেক্টর DEB বীরভূম (অতিরিক্ত দায়িত্ব: নলহাটি থানার ইনচার্জ)

পশ্চিম মেদিনীপুরেও বড়সড় আমুল পরিবর্তন

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বহু থানার ইন্সপেক্টরও রদবদলের আওতায় এসেছেন—

  • খড়্গপুর টাউন থানা

  • কেশিয়াড়ি থানা

  • মোহনপুর থানা

  • গোয়ালতোড় থানা

  • জেলা সাইবার ক্রাইম থানার আইসি

বদলির ফলে দীর্ঘদিন ধরে ‘ভারপ্রাপ্ত’ অবস্থায় থাকা থানা–প্রধানরাও বদল হচ্ছেন।

গত মার্চে বিশেষ কারণে খড়্গপুর টাউন থানার আইসি রাজীব পালকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছিল। তারপর টানা ৮ মাস দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বিভিন্ন ভারপ্রাপ্ত আইসি। এবার স্থায়ী আইসি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন পার্থসারথি পাল।

পার্থসারথি পাল—

  • ২০২৩ সাল থেকে আইসি, জয়নগর থানা

  • তার আগে মেদিনীপুর কোতোয়ালী থানার আইসি
    এবার দায়িত্ব পেলেন শিল্পশহর খড়্গপুর টাউন থানার।

জেলা পুলিশ মহলে তাঁর অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। খড়্গপুরের মতো চ্যালেঞ্জিং শহরের নিরাপত্তা–পরিস্থিতি সামলাতে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা কাজে লাগবে বলেই মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এই রদবদলের তাৎপর্য কী?

  • সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত মামলা ও তদন্তে তৎপরতা বাড়ানো

  • জেলার law & order শক্তিশালী করা

  • থানা পর্যায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া

  • রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় পর্যবেক্ষণ কঠোর করা

স্বরাষ্ট্র দফতরের মতে, “এই পরিবর্তনগুলি পুলিশ পরিষেবার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে।”