কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :২১ মার্চ ২০২৬

কলকাতার রেড রোডে ইদ-উল-ফিতরের নামাজের বিশাল সমাবেশে উৎসবের আবহের মধ্যেই রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি সরাসরি আক্রমণ শানালেন চলতি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে দেওয়া হবে না এবং এই লড়াই তিনি শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই কারণেই তিনি ইতিমধ্যেই দিল্লি গিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং প্রয়োজনে আরও দূর পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “একজন প্রকৃত ভোটারের নামও বাদ পড়তে দেওয়া হবে না, এই লড়াই চলবে।”

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ করে কটাক্ষ করে বলেন, যখন তিনি বিদেশ সফরে ব্যস্ত, তখন দেশের ভিতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আঘাত করছে।

একই সুর শোনা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে বাংলার মানুষ সেই চক্রান্ত ভেস্তে দেবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবে বলেই তাঁর দাবি।

এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই সামনে আসছে নির্বাচনের দিনক্ষণ। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূল ইতিমধ্যেই ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং নির্বাচনী ইস্তাহারও প্রকাশ করেছে। ইদের পর থেকেই পূর্ণমাত্রায় প্রচারে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াই এখন রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বাকি অংশ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মমতার অভিযোগ, এই নিষ্পত্তির মধ্যেও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে এই প্রবণতা বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু সংখ্যালঘু নয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ—হিন্দু, মতুয়া, রাজবংশী—সবাই এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হতে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রথমে শুক্রবার প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে সোমবার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে নির্বাচন শুরুর আগে পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে, ইদের শুভেচ্ছা মঞ্চ থেকেই ভোটার তালিকা ইস্যুকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে তুলে আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনি লড়াই, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং জনসংযোগ—সব মিলিয়ে এই ইস্যুই যে আসন্ন নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে, তা স্পষ্ট।