কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৫ ডিসেম্বর
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির আগমন ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার তদন্তে রবিবার সরেজমিন পরিদর্শন করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গঠিত বিশেষ কমিটি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা মাঠ এবং গ্যালারির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। ঘটনার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়।
স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে বিচারপতি অসীম সাংবাদিকদের বলেন,“এখনই কাটাছেঁড়া করবেন না। তদন্ত একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। আমরা সব দিক সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছি। যা যা পর্যবেক্ষণ করেছি, সবই রিপোর্টে থাকবে।”
কার গাফিলতিতে শনিবার দুপুরে যুবভারতীতে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনই কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। পরিদর্শনের সময় বিচারপতির এক পাশে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পান্ত, অন্য পাশে স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তাঁরাও তদন্ত কমিটির সদস্য। তবে তাঁরা কেউই সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি।
মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতীতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পরই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির শীর্ষে বিচারপতি অসীম, সঙ্গে রয়েছেন— রাজ্যের মুখ্যসচিব,অতিরিক্ত মুখ্যসচিব,স্বরাষ্ট্র সচিব,পার্বত্য বিষয়ক সচিব
রবিবার মেসির ব্যবহার করা পথ ধরে স্টেডিয়ামে ঢোকেন কমিটির সদস্যরা। মাঠের কোণায় কোণায় ঘুরে দেখা হয়, গ্যালারির অবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়। এরপর দীর্ঘ বৈঠকে বসে কমিটি। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন তাঁরা।
অন্যদিকে সকালে যুবভারতী পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান— ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি আলাদা রিপোর্ট তৈরি করবেন ,ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী কী করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেবেন
অপরদিকে শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে মেসি, সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পলের গাড়ি স্টেডিয়ামে ঢোকে। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা দর্শকরা আশা করেছিলেন তাঁরা অন্তত দূর থেকে ফুটবল তারকাদের দেখতে পাবেন।
কিন্তু আয়োজক ও নেতামন্ত্রীদের ভিড়ে মেসিকে আদৌ দেখা যাচ্ছিল না। প্রায় পনেরো–কুড়ি মিনিটের মধ্যেই তিনি স্টেডিয়াম ছাড়েন। আর তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকেরা—গ্যালারির চেয়ার ভাঙা,প্লাস্টিকের বোতল ছোড়া ও তীব্র বিক্ষোভ দেখায় দর্শকরা ।
পুরো যুবভারতী মুহূর্তে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরে বিধাননগর পুলিশ শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ নেওয়া হয়।
যুবভারতীর এই লজ্জাজনক বিশৃঙ্খলা কীভাবে ঘটল, কোথায় নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল, আয়োজকদের ভূমিকা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত কমিটি। রিপোর্ট জমা না পড়া পর্যন্ত সব নজর এখন বিচারপতি অসীমের দলের দিকে।
Continue With Google
Comments (0)