কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৪ নভেম্বর

https://youtu.be/vO0m0C8QzP4

WATCH VIDEO HERE : 👆

শারদ উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা প্রস্তুত হচ্ছে তার পরের সবচেয়ে বড় উৎসবের জন্য — আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই বই উৎসব, বইপ্রেমীদের বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠান।

৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, প্রকাশক ও গুণিজনরা। স্থান — সল্টলেকের ঐতিহ্যবাহী বইমেলা প্রাঙ্গণ।

বইমেলার আয়োজক সংস্থা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর — যেমন নগরোন্নয়ন দপ্তর, কে এম ডি এ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, বিধাননগর পুলিশ ও পৌরসংস্থা — একযোগে কাজ করছে এই মেলাকে সফল করতে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে তাঁদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য।

এই বছর বইমেলার বিশেষ আকর্ষণ ফোকাল থিম কান্ট্রি – আর্জেন্তিনা। ভারত ও আর্জেন্তিনার মধ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার ক্ষেত্রের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তা আরও দৃঢ় হবে এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
বইমেলায় উপস্থিত থাকবেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্তিনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, যাঁদের কাছ থেকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের পরিকল্পনা শোনার অপেক্ষায় রয়েছে সাহিত্যপ্রেমী মহল।

গতবারের বইমেলা ছিল রেকর্ড-ব্রেকিং — ২৭ লক্ষ পাঠক অংশ নিয়েছিলেন, আর বই বিক্রির অঙ্ক ছুঁয়েছিল ২৩ কোটি টাকা।
এই সাফল্য যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনই আয়োজকদের সামনে চ্যালেঞ্জও এনেছে। কারণ, অনেক নতুন প্রকাশক অংশগ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন, অথচ প্রদর্শনী ক্ষেত্রের আয়তন বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেলায় স্টলের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে না।

পাশাপাশী ullekho ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা পা দেবে সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে। এই উপলক্ষে আয়োজক কমিটি এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে — বইমেলার পুরনো ছবির প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা।
যাঁরা ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ময়দানের বইমেলায় ছবি তুলেছিলেন, তাঁদের সেই দুর্লভ আলোকচিত্র পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচিত সেরা ১০টি ছবি যথাযোগ্য মূল্যে পুরস্কৃত হবে, এবং ২০২৬ সালের বইমেলার প্রেস কর্ণারে প্রদর্শিত হবে। শেষ তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫।

উল্লেখ ২০২৬ সালের বইমেলায় অংশ নেবে গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, জাপান, পেরু, কলম্বিয়া, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য লাতিন আমেরিকার দেশ।
এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রকাশকরা অংশ নেবেন — দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, বিহার, কর্ণাটক, তামিলনাডু, গুজরাট, আসাম, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা প্রভৃতি থেকে।
থাকছে আগের মতোই লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন, চিলড্রেনস প্যাভিলিয়ন, সাহিত্য আড্ডা, কবিতা মঞ্চ, এবং আরও অনেক আকর্ষণ।

কলকাতা বইমেলা শুধু বই কেনা-বেচার উৎসব নয়, এটি বাংলার মাটিতে জ্ঞানের, ভাবনার ও সংস্কৃতির মহামিলনস্থল। ২০২৬ সালের এই উৎসবে আর্জেন্তিনার অংশগ্রহণ, সুবর্ণজয়ন্তী প্রস্তুতি ও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ মিলে বইমেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে, এমনটাই আশা পাঠক ও প্রকাশক সমাজের।