কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৮ ডিসেম্বর
একদিকে নিউটাউনের ঘুনি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দগদগে দাগ, অন্যদিকে রাতের নিস্তব্ধতা চিরে কাঁকুড়গাছিতে অক্সিজেন সিলিন্ডারের গোডাউনে পরপর বিস্ফোরণ। একটি রাত, দুটি এলাকা— অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল কলকাতা ও তার উপকণ্ঠ।
পোড়া গন্ধ আর কালো ধোঁয়ায় মোড়া বৃহস্পতিবারের ভোর। নিউটাউনের ঘুনি বস্তিতে আগুন লাগে বুধবার সন্ধে সাড়ে ৬টার সময়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। বাঁশ, প্লাস্টিক, ত্রিপল— সবকিছুই একসঙ্গে জ্বলে ওঠায় আগুন ভয়ংকর গতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অনেকেই ঘর ছেড়ে পালিয়ে বাঁচেন। রাতভর দমকলের লড়াইয়ে ২০–২৫টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি নেভানো যায়নি। একের পর এক পকেট ফায়ার এখনও জ্বলছে। এই আগুন যাতে ফের ছড়িয়ে না পড়ে, তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাঁচটি দমকল ইঞ্জিন কুলিং ডাউন প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে সর্বস্ব হারানোর ক্ষত লুকোতে পারছেন না কেউই। পুড়ে গেছে ঘর, পোশাক, আসবাব, নথি— সব কিছু। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে দাহ্য কিছু থেকেই আগুন লাগার প্রাথমিক অনুমান।
অন্যদিকে ঘুনি বস্তির আগুনের রেশ কাটার আগেই রাত দুই-আড়াইটে কাঁকুড়গাছির লোহাপট্টি এলাকায় ঘটে তীব্র বিস্ফোরণ। একটি মেডিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডারের গোডাউনে প্রথম বিস্ফোরণটি হয়, তারপরই পরপর একের পর এক সিলিন্ডার ফাটতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, “কম করে ১০০টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। মনে হচ্ছিল যুদ্ধ শুরু হয়েছে!”
বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের বাড়ির কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। একটি সিলিন্ডার কয়েকশো মিটার দূরে উড়ে গিয়ে একটি বাড়িতে গিয়ে পড়ে। জ্বলন্ত সিলিন্ডার রাস্তায় ছিটকে পড়ে। আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটতে থাকেন এলাকার বাসিন্দারা।
গোডাউনের পাশে থাকা প্লাস্টিক ও লোহার গুদামেও আগুন ধরে। এমনকি একটি সুতোর কারখানায়ও আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
খবর পেয়েই দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকা জুড়ে রয়েছে পোড়া টিন, ভাঙাচোরা চাল, ছিটকে যাওয়া সিলিন্ডারের খোল ও ছাই।
এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। তবে এত বড় বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না— সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে জানিয়েছেন,“গোডাউনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক ছিল কি না, কীভাবে এত সিলিন্ডার একসঙ্গে রাখা হয়েছিল— সবটাই খতিয়ে দেখা হবে।”
Continue With Google
Comments (0)