মুম্বই শহরের পওয়াই এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। অডিশনের নাম করে ডেকে এনে ১৭ জন শিশুকে (বয়স ১২ থেকে ১৫ বছর) জিম্মি করে রাখে এক ব্যক্তি, নাম রোহিত আর্যা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে এই ভয়াবহ নাটক। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও দমকলের যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয় সব ক’জন শিশুকে। অভিযুক্ত আর্যাকে গুলি করে খতম করে পুলিশ।
সূত্রের খবর, রোহিত আর্যা চার দিন আগে পওয়াইয়ের মহাবীর ক্লাসিক নামের একটি বাণিজ্যিক-আবাসিক ভবনের স্টুডিও ভাড়া নেয়। বৃহস্পতিবার সকালে সে সেখানে এক “অডিশন”-এর আয়োজন করে। ১৭ জন শিশু তাদের বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে স্টুডিওতে আসে। বাবা-মায়েরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, আর শিশুরা ভিতরে যায় অডিশনে অংশ নিতে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও কেউ বাইরে না আসায় অভিভাবকদের মনে সন্দেহ জাগে। দুপুর একটা নাগাদ তাঁরা দেখেন, ভেতরে জানলার আড়াল থেকে কিছু শিশু কাঁদছে, সাহায্য চাইছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। পওয়াই থানার পুলিশ ১.৪৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রোহিত আর্যা স্টুডিওর দরজায় বিশেষ সেন্সর লাগিয়ে রেখেছিল, যাতে কেউ ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে তাকে সতর্ক করে দেয়। সে সময় আর্যার সঙ্গে ছিলেন তার দুই মহিলা ও এক পুরুষ সহকারী। হাতে ছিল একটি এয়ারগান ও ইনফ্ল্যামেবল স্প্রে — যেটি দিয়ে সে শিশুদের ভয় দেখাত।
বিকেল তিনটার সময় পুলিশ দমকলের সাহায্যে অভিযান শুরু করে। দুটি দল তৈরি করা হয়—একটি দল ভবনের বাথরুমের দিক দিয়ে পাইপ বেয়ে ঢোকে, আরেকটি দল গ্লাসওয়াল কেটে অন্য দিক থেকে প্রবেশ করে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান।
শেষ পর্যন্ত পুলিশ যখন বাথরুম দিয়ে স্টুডিওর ভিতরে প্রবেশ করে, তখন অভিযুক্ত রোহিত আর্যা শিশুদের সামনে এয়ারগান তাক করে ছিল। সেই সময় পওয়াই থানার অ্যান্টি-টেরর সেলের অফিসার অমল ওয়াঘমারে পাল্টা গুলি চালান। গুলি লাগে রোহিতের বুকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে জোগেশ্বরির হিন্দু হৃদয়সম্রাট বালাসাহেব ঠাকরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সব ১৭ জন শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়, যদিও কয়েকজন শিশু ভয় ও আতঙ্কে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রোহিত আর্যার কোনও অপরাধমূলক যোগসূত্র বা মানসিক অসুস্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমান, তিনি “অডিশন” ছিল একটি ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
পওয়াই থানার এক অফিসার বলেন, “এটি বড় বিপর্যয় হতে পারত। আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ না করলে হয়তো আমরা আজ ভয়ঙ্কর খবর শুনতাম।”
এই ঘটনায় মুম্বই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে উদ্ধার অভিযানের ভিডিও—যেখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ও দমকলকর্মীরা বিল্ডিংয়ের পাইপ বেয়ে উঠে শিশুদের নিরাপদে বের করে আনছেন।
Comments (0)