কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১৯ নভেম্বর
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক ব্যক্তির পচাগলা দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। বাড়ির ভিতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রাজেশ কয়াল নামে এক ব্যক্তির দেহ।
ঘটনাটি ঘটে বারুইপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঋষি বঙ্কিম নগর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধেবেলা রাজেশের বাড়ি থেকে অসহ্য গন্ধ বেরোতে শুরু করে। প্রথমে প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন হয়তো নিকাশি থেকে গন্ধ আসছে। কিন্তু গন্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তারা থানায় জানান।
বারুইপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাবল-হাতুড়ি দিয়ে গ্রিল ও তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ভেতরে বিছানার উপর পচনধরা দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় এবং পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ৪৫ বছর বয়সি রাজেশ কয়াল বাড়িতে একাই থাকতেন। বাবা-মা আগেই মারা গিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও দাবি করছেন এলাকাবাসী।
প্রতিবেশীরা বলেন,
“ওকে খুব একটা বেরোতে দেখা যেত না। বহুদিন ধরে ঘরটাই বন্ধ ছিল।”
দিন কয়েক আগে এনিউমারেশন ফর্ম দিতে আসে BLO। সেদিনও কোনও সাড়া মেলেনি। এর থেকেই সন্দেহ বাড়ছিল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া দেহ দেখে পুলিশের অনুমান, ৮–৯ দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে রাজেশের। দেহে পচন ধরেছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনই নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় কাউন্সিলর মুজাফ্ফর আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
রাজেশের মৃত্যুকে ঘিরে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠছে—
-
মানসিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু?
-
নাকি, আত্মহত্যা করেছেন তিনি?
-
কোনও অপরাধমূলক ভূমিকা আছে কি?
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালেও, স্থানীয়রা বলছেন—
“রাজেশ একা থাকত, কিন্তু কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। তবে এত দিন পরে দেহ উদ্ধার হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত।”
এ ঘটনায় আবার সামনে এসেছে নিঃসঙ্গ ও মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
Continue With Google
Comments (0)