কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৯ অক্টোবর 

  সিনেপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩১তম অধ্যায়। আগামী ৬ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকে কাঠি পড়ল — নন্দন, শিশির মঞ্চ, রবীন্দ্র সদন চত্বর প্রস্তুত হয়ে উঠছে বিশ্ব সিনেমার মিলনমেলায় পরিণত হতে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF) হতে চলেছে একেবারে জমজমাট ও তারকাখচিত। ফেস্টিভালের সূচি প্রকাশের পাশাপাশি মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয় একগুচ্ছ মাস্টারক্লাস, সেমিনার ও এক্সহিবিশনের বিস্তারিত তথ্য। এ বছরের ফোকাস কান্ট্রি পোল্যান্ড। তাই পোলিশ সিনেমা, তাদের ইতিহাস, চলচ্চিত্রভাষা এবং সিনেমাটোগ্রাফির উপরে থাকবে একাধিক আলোচনা ও প্রদর্শনী। ৮ নভেম্বর বিকেল ৩টেয় হবে ‘Polish Cinema: History, Heritage, and Modern Vision’ শীর্ষক বিশেষ সেশন। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ একাধিক বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও সেমিনার—
  • ৭ নভেম্বর সকাল ১১টা, শিশির মঞ্চে সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল লেকচার দেবেন ‘শোলে’-খ্যাত পরিচালক রমেশ সিপ্পি।
  • একই দিনে বিকেল ৪টেয়, ‘Beyond Borders: Displacement and Migration’ বিষয়ে বিশেষ সেমিনার।
  • ৯ নভেম্বর, মহান পরিচালক গুরু দত্ত-কে স্মরণে আয়োজিত সেমিনারের শিরোনাম— “Guru Dutt: The Melancholic Maverick”।
  • ১০ নভেম্বর, বাংলা আকাদেমিতে হলিউড পরিচালক ব্রিলানতে মেনডোজা-র মাস্টারক্লাস এবং বিকেলে থাকবে “AI and the Future of Cinema” নিয়ে সেমিনার।
  • ১১ নভেম্বর বিকেল ৪টা, শিশির মঞ্চে শতবর্ষে ঋত্বিক ঘটক-কে ঘিরে বিশেষ সেমিনার।
  • ১২ নভেম্বর, ঋত্বিক ঘটকের কাজ নিয়ে বিশেষ কথোপকথনে অংশ নেবেন আদুর গোপালকৃষ্ণন ও অনুপ সিং।
এ বছরের এক্সহিবিশন বিভাগও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। নন্দনের প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালায় থাকছে শতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শনী, যেখানে সম্মান জানানো হবে— ঋত্বিক ঘটক, রিচার্ড বার্টন, স্যাম পেকিনাফ, সন্তোষ দত্ত, সলিল চৌধুরী এবং রাজ খোসলাকে। অন্যদিকে প্রতিবছরের মতোই এ বছরও জমজমাট ও বৈচিত্র্যে ভরপুর হতে চলেছে এই উৎসব। মঙ্গলবারের সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করা হয় ফেস্টিভ্যালের পূর্ণ সূচি। উৎসবে জমা পড়েছে ১৮২৭টি চলচ্চিত্র, যার মধ্যে ২১৫টি ছবি নির্বাচিত হয়েছে প্রদর্শনের জন্য। এর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে থাকছে—
  • ৪৩টি ফিচার ফিল্ম,
  • ১৯টি শর্ট ফিল্ম,
  • এবং ১০টি ডকুমেন্টারি।
অন্যদিকে নন-কম্পিটিশন বিভাগে দেখানো হবে—
  • ৮৯টি ফিচার ফিল্ম,
  • ৫৪টি শর্টস ও ডকুমেন্টারি।
মোট ৩৯টি দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এই উৎসবে এবং কলকাতার ২১টি প্রেক্ষাগৃহে চলবে প্রদর্শনী। উল্লেখ এই বছরের ফেস্টিভ্যালের ফোকাস কান্ট্রি পোল্যান্ড। তাই পোলিশ সিনেমা, তাদের ইতিহাস, চলচ্চিত্রভাষা ও নান্দনিকতায় ভরপুর আলোচনা ও প্রদর্শনী থাকছে। ৮ নভেম্বর বিকেল ৩টায় পোল্যান্ডের সিনেমা নিয়ে হবে বিশেষ সেশন। চলচ্চিত্র উৎসব মানেই শুধু সিনেমা নয়, বরং সিনেমা নিয়ে ভাবনা, গবেষণা এবং সৃজনশীল আলাপচারিতা। এ বছরও থাকছে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সেশন ও মাস্টারক্লাস
  • ৭ নভেম্বর সকাল ১১টা, শিশির মঞ্চে সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল লেকচার দেবেন কিংবদন্তি পরিচালক রমেশ সিপ্পি (‘শোলে’–খ্যাত)।
  • একই দিন বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার—“Beyond Borders: Displacement and Migration”।
  • ৯ নভেম্বর থাকবে আলোচনা “Guru Dutt: The Melancholic Maverick”—গুরু দত্তের জীবন ও সিনেমার অন্তর্লীন বেদনা নিয়ে।
  • ১০ নভেম্বর বাংলা আকাদেমিতে থাকছে হলিউড পরিচালক ব্রিলানতে মেনডোজা-র মাস্টারক্লাস। বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সেমিনার “AI and the Future of Cinema”।
  • ১১ নভেম্বর বিকেল ৪টা, শিশির মঞ্চে ঋত্বিক ঘটকের শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ সেমিনার।
  • ১২ নভেম্বর, ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে কথোপকথনে থাকবেন আদুর গোপালকৃষ্ণন ও অনুপ সিংহ।
এই বছরের এক্সহিবিশন বিভাগও রঙিন চমকে ভরপুর।নন্দনের প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে ঋত্বিক ঘটকের ছবিতে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। অন্যদিকে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালায় থাকছে শতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শনী, যেখানে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে—ঋত্বিক ঘটক, রিচার্ড বার্টন, স্যাম পেকিনাফ, সন্তোষ দত্ত, সলিল চৌধুরী এবং রাজ খোসলাকে। পাশাপাশি পোল্যান্ডের সিনেমাটোগ্রাফি নিয়েও থাকবে আলাদা প্রদর্শনী। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আজ শুধুই সিনেমার প্রদর্শনী নয়—এ এক সংস্কৃতি, ভাবনা, ও মানবতার মহাযজ্ঞ। এই শহর ও তার সিনেপ্রেমী মানুষদের জন্য এটি গর্বের, আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার উৎসব। বিশ্বের নানা প্রান্তের চলচ্চিত্র, শিল্পী, ও চলচ্চিত্রচিন্তার এই সমাবেশে কলকাতা আবারও প্রমাণ করবে—এ শহর সত্যিই সিনেমার প্রাণকেন্দ্র। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুধু সিনেমা নয়, এটি শহরের সংস্কৃতি, শিল্প ও চিন্তার এক বহুমাত্রিক মিলনক্ষেত্র। নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সঙ্গে এই উৎসব আবারও গড়ে তুলবে চলচ্চিত্র ও সমাজের সেতুবন্ধন।