কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৯ অক্টোবর 

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে রাজ্যজুড়ে নানা প্রশ্ন, আতঙ্ক ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কোথায় কবে বিএলও যাবেন? কর্মসূত্রে বাইরে থাকলে কী হবে? ১১টি নথি না থাকলে কি নাম বাদ যাবে? এই সমস্ত প্রশ্নেরই জবাব দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজকুমার আগরওয়াল। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানালেন—
 “এটা সম্পূর্ণ সরকারি কাজ। ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। আগেও দেশে এই প্রক্রিয়া হয়েছে, এবারও স্বচ্ছভাবে তা হবে।”

জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) কর্তৃক ঘোষিত এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া রাজ্যে শুরু হওয়ার পর থেকেই নাগরিকদের মধ্যে নানা ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান সেই বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সিইও আগরওয়াল বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন পুরো প্রক্রিয়াটি।

নাগরিকদের ১৫টি সংশয়ের উত্তর — এক নজরে:

1 এক মাসে প্রক্রিয়া শেষ হবে?
সিইও বলেন, “হ্যাঁ, সম্ভব। বিহারে এর থেকেও বেশি ভোটার থাকা সত্ত্বেও সময়মতো কাজ শেষ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ হবে।”

২️ আধার কার্ড কি পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
তিনি জানান, “নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা দিয়েছে। আধার কার্ডকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে ধরা হবে।”

৩️ কেউ কর্মসূত্রে বাইরে থাকলে কীভাবে ফর্ম পূরণ করবেন?
“পরিবারের সদস্য ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে পারবেন, কিংবা অনলাইনে জমা দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।”

৪️ প্রত্যন্ত এলাকায় সচেতনতা কীভাবে বাড়ানো হবে?
“প্রচার বাড়ানো হবে— সংবাদমাধ্যম, মাইকিং এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।”

৫️ সব বুথে কি রাজনৈতিক দলের বিএলএ থাকবে?
“সব বুথে নেই, তবে যত বেশি এজেন্ট থাকবে, তত কাজ সহজ হবে। প্রতি বিএলএ ৫০টি ফর্ম জমা দিতে পারবেন।”

৬️ রাজনৈতিক বক্তব্যে আতঙ্ক— আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে! কমিশনের অবস্থান?
“এসআইআর সরকারি প্রক্রিয়া, এর সঙ্গে ভয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। এই কাজ দেশে বহুবার হয়েছে।”

৭️ কার বাড়িতে কবে বিএলও যাবেন? বাড়িতে না থাকলে কী হবে?
“বিএলও আগেই জানিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে তিন-চারবার যাবেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০টি বাড়িতে গেলেই এক মাসে কাজ শেষ হবে।”

৮️ ১১টি নথি না থাকলে নাম বাদ যাবে?
“না। নিজের বা পিতামাতার নাম থাকলে তা যথেষ্ট। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য অন্য নথিও গ্রহণযোগ্য। শুনানি হবে, এবং প্রতিটি ফর্ম খসড়া তালিকায় থাকবে।”

৯️ এখন নতুন ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে?
“না, এখন তালিকা ‘ফ্রিজ’ করা আছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই নতুন সংযোজন সম্ভব।”

সাংবাদিকদের তরফে প্রশ্ন করা হয় -এসআইআরের সঙ্গে এনআরসির সম্পর্ক আছে কি ?
উত্তরে মনোজকুমার আগরওয়াল জানান  - “না, এটা সম্পূর্ণ আলাদা রিভিশন প্রক্রিয়া। এনআরসি নিয়ে কোনও মন্তব্য নয়।”

১. অনাথদের জন্য কী ব্যবস্থা?
“কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। এনুমারেশন ফর্ম জমা দিলেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

২️ আধিকারিকদের বদলি হলে অসুবিধা হবে কি?
“না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আধিকারিকরা দায়িত্ব নেবেন। নতুনদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”

৩️ বিএলওদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ?
“এমন কোনও তথ্য মেলেনি। নিরাপত্তার বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্ব। নজর রাখা হচ্ছে।”

৪️ সিইও ওয়েবসাইট বন্ধ কেন?
“সাইট আপগ্রেডের কাজ চলছে, সাত দিনের মধ্যে চালু হবে।”

৫️ প্রশান্ত কিশোরের নাম দুই রাজ্যে কেন?
“বিহারে ইতিমধ্যেই SIR শেষ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এবার সেন্ট্রালাইজড ডেটা থাকবে, ফলে ডুপ্লিকেট নাম বাদ যাবে।”


নির্বাচন কমিশনের বার্তা একটাই— “এটা কোনও আতঙ্কের নয়, বরং নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।”
আগেও যেমন ভোটার তালিকা সংশোধন হয়েছে, এবারও সেই প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করা হচ্ছে।

সিইও আগরওয়াল শেষ পর্যন্ত বলেন,

“গণতন্ত্রের ভিত্তি হল সঠিক ভোটার তালিকা। সেই কাজটাই আমরা করছি— নির্ভয়ে অংশ নিন।”