কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :৩১ ডিসেম্বর


বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে ফের অস্বস্তি বাড়ালেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে আলাদা দল গড়া বিধায়ক Humayun Kabir। একের পর এক মন্তব্যে তিনি যেমন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করলেন, তেমনই প্রকাশ্যে ছুড়ে দিলেন বড় চ্যালেঞ্জ—আগামী জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কৌশলে Mamata Banerjee ও Abhishek Banerjee-র মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা করেই নিজের রাজনৈতিক জায়গা পোক্ত করতে চাইছেন হুমায়ুন।

মঙ্গলবার কলকাতায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন,“আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সরকার গড়তে গেলে আমাকে এবং আমার দলের বিধায়কদের প্রয়োজন হবেই।”

এর আগেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁর দল প্রার্থী দেবে না, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা শুভেন্দু অধিকারী দাঁড়ালে প্রার্থী দেবেন। মঙ্গলবার ফের সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“মমতা যদি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিয়ে মন্দিরে যান, তা হলে আমিও আমার দলীয় পদ ছেড়ে দেব।”

উল্লেখ হুমায়ুনের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি আগামী জানুয়ারিতেই তাদের প্রথম বড় সমাবেশ করতে চলেছে Brigade Parade Ground-এ। তাঁর ঘোষণা, “২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রিগেড হবে। সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুমতির বিষয়টি নিয়ে কথা চলছে। ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষ হবেই—এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।” একসাথে ওই সমাবেশেই আগামী বিধানসভা ভোটে দলের জোটসঙ্গীদের সঙ্গে রাজ্যবাসীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পাশাপসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্দির সংক্রান্ত উদ্যোগ নিয়েও সরব হন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ,
“রাজ্যের কোষাগার থেকে ২৬২ কোটি টাকা নিয়ে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস করা হয়েছে। মন্দির হোক, কিন্তু সরকারি টাকায় নয়। রামমন্দির তো সরকারি টাকায় হয়নি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “শিলিগুড়িতে যখন মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস হবে, সেদিনই এই সরকারের পতন হবে।”

অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মন্তব্য টেনে হুমায়ুন বলেন,“উনি পিসিকে বলুন—যদি উনি বলেন ২০২৬-এ ভোটে লড়বেন না, মুখ্যমন্ত্রী হবেন না, রাজনীতি ছেড়ে সন্ন্যাস নেবেন—সেদিনই আমি রাজনীতি থেকে সরে যাব। পার্টি থাকবে, কিন্তু আমি ভোটে লড়ব না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন সচেতন ভাবেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজনের বার্তা দিতে চাইছেন।

হুমায়ুনের দাবি,“বিজেপি ১০০ আসনের বেশি পাবে না। তৃণমূল থাকবে তৃতীয় স্থানে। নতুন সরকার গড়তে গেলে জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়কদের সহায়তা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

এদিকে হুমায়ুনের পুত্র গোলাম নবি আজাদ-ও তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গোলাম বলেন, “দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বাবা দলের ভিতরে থেকেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলছিলেন। এটা আমার ভাল লাগেনি। প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে দেব, কিন্তু তৃণমূলে আর নয়।”
তিনি নিজেকে দলের ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ বলেও দাবি করেন।

ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশের ঘোষণা নিছক শক্তি প্রদর্শন নয়—এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে শাসকদলের অন্দরের সমীকরণে নাড়া দেওয়ার কৌশল। মমতা–অভিষেক প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন কবীরের এই আক্রমণ শেষ পর্যন্ত রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।