কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :৩০ জানুয়ারি ২০২৬
ধোঁয়া আর পোড়া প্লাস্টিকের গন্ধ এখনও বাতাসে ভাসছে। পাঁচ দিন কেটে গেলেও আনন্দপুরের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত শুকোয়নি। ছাই সরালেই উঠে আসছে মৃত্যুর প্রমাণ।
শুক্রবার সকালেও উদ্ধারকারীরা আবার হাতুড়ি, কাটার আর শাবল নিয়ে ঢুকেছেন ধ্বংসস্তূপে। আর সেখান থেকেই মিলেছে আরও দেহাংশ।
এখন পর্যন্ত ২৫ জনের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে।
এদিকে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ‘ওয়াও মোমো’ গোডাউনের ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী এবং ডেপুটি ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীটকে।
গত রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ‘ওয়াও মোমো’ কারখানা ও সংলগ্ন ডেকরেটর্স গোডাউনে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা চত্বরে।
দমকলের একাধিক ইঞ্জিন রাতভর লড়াই করলেও আগুনের তীব্রতায় ভবন প্রায় ভস্মীভূত হয়ে যায়।
তার পর থেকেই চলছে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে খুঁড়ে দেহাংশ উদ্ধারের কাজ।
উদ্ধারকারীদের কথায়—
“অনেক জায়গায় দেহ এমনভাবে পুড়ে গেছে যে মানুষ না পশু বোঝা কঠিন। শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষাই ভরসা।”
পরিবারের তরফে ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছিল নরেন্দ্রপুর থানায়।
এখন পর্যন্ত ২৫ জনের দেহাংশ পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও দেহাংশ মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
দমকল ও ফরেন্সিকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর ত্রুটি—
-
পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না
-
ফায়ার সেফটি অডিট নিয়মিত হয়নি
-
জরুরি নির্গমন পথ কার্যত অচল
এই গাফিলতির অভিযোগেই ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ তাঁদের আদালতে তোলা হবে।
দেহাংশ শনাক্ত করতে শুরু হয়েছে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ।
প্রমাণ নষ্ট এড়াতে পুরো এলাকা সিল করা হয়েছে।
জারি হয়েছে ধারা ১৬৩, যাতে পাঁচ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ।
ঘটনার পর প্রথমে অভিযোগ উঠেছিল ‘ওয়াও মোমো’ কারখানা থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
তবে ফরেন্সিক ও দমকলের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে—
আগুনের উৎস ছিল সংলগ্ন ডেকরেটর্সের গুদাম।
সেখানকার তিনতলা অংশ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মোমো কারখানায়।
ফলে তদন্তের মোড় ঘুরেছে নতুন দিকে।
গোডাউনের বাইরে এখনও অপেক্ষা করছেন বহু পরিবার।
কেউ ভাইকে খুঁজছেন, কেউ স্বামীকে, কেউ সন্তানের খোঁজে দিন কাটাচ্ছেন।
এক আত্মীয়ের কথায়—
“দেহটা পেলেও শান্তি। অন্তত শেষকৃত্যটা করতে পারব।”
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—
শহরের বুকে এত বড় শিল্প কারখানায় কীভাবে ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা এত দুর্বল ছিল?
নিয়মিত অডিট কেন হয়নি?
এই গাফিলতির দায় কার?
তদন্ত শেষ না হলেও আনন্দপুরের আগুন ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিল্প নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।
Continue With Google
Comments (0)