ইডি তল্লাশি, আদালত-পর্ব এবং রাজনৈতিক চাপানউতরের পর অবশেষে মুখ খুলল রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা I-PAC। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে সংস্থার অফিস ও কর্ণধার Prateek Jain-এর বাড়িতে Enforcement Directorate (ED)-র অভিযানের পর শুক্রবার রাতে প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানাল আই-প্যাক। সংস্থার বিবৃতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বিবৃতিতে আই-প্যাক জানায়,“এই ধরনের তল্লাশি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং গভীরভাবে উদ্বেগের বিষয়। রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এহেন পদক্ষেপ কাম্য নয়।”
তবে একই সঙ্গে সংস্থা স্পষ্ট করে জানায়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনে ডাকলে তারা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। অর্থাৎ, আপত্তি থাকলেও আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাচ্ছে আই-প্যাক।

বিবৃতিতে নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিসরের কথা তুলে ধরে আই-প্যাক জানায়, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে তারা—
সংস্থার দাবি,“আমাদের কাজ রাজনৈতিক মতাদর্শে নয়, পেশাদার নীতিতে পরিচালিত। তাই কোনও দলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই ওঠে না।”
আই-প্যাক তাদের বিবৃতিতে আরও জানায়, সংস্থার মালিকানা ও নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। এক সময়ের কর্ণধার Prashant Kishor বর্তমানে আর আই-প্যাকের দায়িত্বে নেই। এখন সংস্থার কর্ণধার ও পরিচালনার ভার প্রতীক জৈন-এর হাতে।
বর্তমানে আই-প্যাক কাজ করছে Trinamool Congress (TMC)-র রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে—এই তথ্যও তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
আই-প্যাকের মতে, হঠাৎ করে এই ধরনের তল্লাশি শুধু একটি সংস্থাকে নয়, বরং গণতান্ত্রিক পরিসর ও নাগরিক সমাজের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণকারী একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এহেন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কী বার্তা দেয়—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে সংস্থাটি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আই-প্যাকের এই বিবৃতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান, অন্যদিকে শাসকদলের পরামর্শদাতা সংস্থার প্রকাশ্য অবস্থান—এই সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
Comments (0)