কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :০৭ জানুয়ারি ২০২৬ 

বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভিনরাজ্যে অপমান, হেনস্থা ও বেআইনি আটকের অভিযোগ—এই প্রেক্ষিতেই বুধবার বালুরঘাটে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বাসিন্দা অসিত সরকার ও তাঁর সঙ্গীদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার খোঁজ নেন তিনি। সেই সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ Sukanta Majumdar-কে কটাক্ষ করে বলেন—মানুষের বিপদে পাশে না থাকলে জনপ্রতিনিধিত্বের অর্থ কী?

অসিত সরকার ও তাঁর সঙ্গীদের দাবি, মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে আটক করা হয়। অভিযোগ, বেআইনিভাবে আটকে রেখে প্রত্যেকের মুক্তির শর্তে ১.৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও সাংসদের কাছে সাহায্য চেয়েও কোনও সাড়া মেলেনি।

তপনের অসিত সরকারের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতি গৌতম বর্মণ। তিনিও প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন— “মহারাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর আমরা ফোন করেছিলাম। বিজেপির কেউ ফোন ধরেননি। সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও কোনও সাহায্য করেননি।”

এই অভিযোগ শোনার পর অভিষেক বলেন, “বাংলাদেশি তকমা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরিবার স্থানীয় সাংসদের কাছে গিয়েছিল। মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার, তবু সুকান্ত কিছু করেননি। আমরা জানতে পেরে কাঠখড় পুড়িয়ে ওদের ছাড়িয়ে এনেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এখানে তৃণমূল–বিজেপি কীসের? রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছেন, তাঁদের প্রতি দায়িত্ব নেই ?”
এই প্রসঙ্গেই সুকান্ত মজুমদারকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন—‘ফ্যাশন শোয়ের মাস্টার’, ‘স্টপেজ মিনিস্টার’।

কটাক্ষের জবাবে সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা বক্তব্য, “তৃণমূলের আমলে বালুরঘাটে কী কাজ হয়েছে আর আমার আমলে কী কাজ হয়েছে—মানুষ জানেন। ভোটবাক্সেই জবাব মিলবে।”

এই প্রসঙ্গে বীরভূমের সোনালি খাতুনের ঘটনার কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর দাবি,
“একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। একমাত্র দোষ—তিনি বাংলায় কথা বলেছিলেন।”

পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা—ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আর যেন এই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়। তাঁর আশ্বাস,
“এখানেই কাজের ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্য ছেড়ে গিয়ে অপমান–হেনস্থার শিকার হওয়া মেনে নেওয়া যায় না।”

পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে মানবিক অবস্থানকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের প্রচার আরও ধারালো হলো। একই সঙ্গে বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটমুখী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল এই সফর।