কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক:
বিশ্বফুটবলের মঞ্চে আবারও ইতিহাস লিখল স্পেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল লা রোজা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বসেরার মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়। একই সঙ্গে এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ছিল কৌশল, ধৈর্য এবং স্নায়ুর লড়াই। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোলের দেখা না পেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মূলত স্পেনের হাতেই। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন ফেরান তোরেস। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে তাঁর দুর্দান্ত শট আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জড়িয়ে যায় জালে। সেই একমাত্র গোলই শেষ পর্যন্ত স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আসনে বসায়।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ের এক স্মরণীয় অধ্যায়। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর আরও একবার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত ফুটবল এবং দুর্দান্ত রক্ষণভাগের সামনে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। তবুও বিশ্বকাপ এবং কোপা আমেরিকার সাফল্যে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক অধ্যায় বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্পেনের এই বিশ্বজয়ের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। বয়সে তরুণ হলেও গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে তাঁর পরিণত ফুটবল, গতি এবং আক্রমণভাগে সৃজনশীলতা স্পেনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি গোল না করলেও দলের আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্বকাপ ইয়ামালের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মাইলফলক।
স্পেনের সাফল্যের ভিত্তি ছিল দলগত ফুটবল। মাঝমাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণে মিকেল ওইয়ারজাবালের ধারাবাহিকতা এবং গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই স্পেনকে এগিয়ে রেখেছে। পাঁচটি গোল করে ওইয়ারজাবাল ছিলেন প্রতিযোগিতার অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা, অন্যদিকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন উনাই সিমন।
ফেরান তোরেসও এই ফাইনালের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করা ফুটবলারদের তালিকায় তিনি জায়গা করে নিলেন। একই সঙ্গে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পর বার্সেলোনার দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি।
স্পেনের এই বিশ্বজয় কোনও একক নায়কের গল্প নয়; বরং গোটা দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হলেও এরপর সৌদি আরবকে ৪-০, উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে শেষ করে তারা। নক-আউট পর্বে অস্ট্রিয়াকে ৩-০, পর্তুগালকে ১-০, বেলজিয়ামকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফাইনালে পৌঁছায় স্পেন।
ফাইনালেও স্পেনের আধিপত্য ছিল পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে তারা বলের দখল বেশি রাখার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণ গড়ে তোলে। গোলমুখে স্পেনের ১২টি শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনা মাত্র একটি উল্লেখযোগ্য শট নিতে সক্ষম হয়। অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনার লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
এই শিরোপা স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কোচিং দর্শনেরও বড় স্বীকৃতি। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপ জিতে তিনি দেশের অন্যতম সফল কোচ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন। অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা এবং আধুনিক কৌশলের সমন্বয়ে তিনি এমন একটি দল গড়ে তুলেছেন, যারা ধারাবাহিকতা এবং দলগত ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে স্পেন। গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়েছে তারা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবলই তাদের বিশ্বজয়ের মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
এই শিরোপা শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং স্পেনের ফুটবলে নতুন এক স্বর্ণযুগের সূচনার ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সেই ঐতিহাসিক আধিপত্যের স্মৃতি আবারও যেন ফিরে এসেছে। ইউরোপের সেরা হওয়ার পর এবার বিশ্বের সেরার মুকুটও তাদের মাথায়। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে স্পেন যে আগামী কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম শক্তি হয়ে থাকবে, সেই বার্তাই যেন দিয়ে গেল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ।
Spain Crowned FIFA World Cup 2026 Champions After Extra-Time Victory Over Argentina
Spain lifted the FIFA World Cup 2026 trophy after defeating defending champions Argentina 1-0 in a dramatic extra-time final, reclaiming football's biggest prize for the first time since 2010 and securing only the second World Cup title in the nation's history.
The decisive moment arrived in the 106th minute when substitute Ferran Torres unleashed a powerful strike beyond Argentina goalkeeper Emiliano Martinez to seal a memorable victory. The goal ended Argentina's hopes of defending the title they won in 2022 and marked the conclusion of another unforgettable World Cup campaign for Lionel Messi.
Spain dominated much of the final, controlling possession and creating significantly more chances throughout the match. Argentina's challenge became even more difficult after Enzo Fernandez was sent off during extra time, allowing Spain to comfortably protect their narrow advantage until the final whistle.
Nineteen-year-old Lamine Yamal emerged as one of the stars of the tournament, while Rodri dictated play in midfield, Mikel Oyarzabal finished among the competition's leading scorers, and goalkeeper Unai Simon earned the Golden Glove following a series of outstanding performances.
Ferran Torres also entered World Cup history by becoming one of the few substitutes ever to score in a FIFA World Cup final and only the second Barcelona player after Andres Iniesta to score in a World Cup final.
Spain's road to glory included victories over Saudi Arabia, Uruguay, Austria, Portugal, Belgium and France after opening the tournament with a draw against Cape Verde. Remarkably, Spain conceded just one goal throughout the tournament, underlining the team's defensive strength.
The triumph also completed a remarkable double for Spain after winning UEFA Euro 2024, signalling the return of La Roja as the dominant force in international football under head coach Luis de la Fuente.
Continue With Google
Comments (0)