কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / মুম্বাই :০৩ নভেম্বর

 

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় মহিলা দল। রবিবারের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহিলা একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে নিল ভারত।

প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৭ উইকেটে ২৯৮ রান। রান তাড়ায় নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ধসে পড়ে ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে।
দলের জয়ের মূল কারিগর দুই তারকা—শেফালি বর্মা এবং দীপ্তি শর্মা। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন শেফালি, আর বল হাতে বিধ্বংসী স্পেল দেন দীপ্তি। তাঁদের হাত ধরেই ভারত পায় স্বপ্নের বিশ্বকাপ।

বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হলেও ভারতীয় দল হারায়নি ছন্দ। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়িকা লরা উলভার্ট। কিন্তু ভারতীয় ওপেনাররা শুরু থেকেই তুলে নেন আগ্রাসী ভঙ্গি।

চোটের কারণে প্রতিকা রাওয়াল না খেলায় সুযোগ পান তরুণী শেফালি বর্মা। সেই সুযোগকেই তিনি রূপ দেন ইতিহাসে।
প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী ভঙ্গি, নিখুঁত টাইমিং—২১ বছর ২৭৮ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে অর্ধশতরান করা সবচেয়ে কমবয়সী ভারতীয় ওপেনার হয়ে যান শেফালি। এই রেকর্ড এতদিন ছিল বীরেন্দ্র সহবাগের দখলে (২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল)।

স্মৃতি মন্ধানার সঙ্গে গড়েন শতরানের জুটি। ৪৯ বলে অর্ধশতরান, আর শেষে ৭৮ বলে ৮৭ রানের ইনিংস—শেফালির ব্যাটিং ছিন্নভিন্ন করে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং লাইনআপ। পুরুষ ও মহিলা—দু’দলের ইতিহাসেই বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ভারতীয় ওপেনারের সর্বোচ্চ ইনিংস এখন তাঁর নামের পাশে।

ব্যাট হাতে ৪২ রানের পর বল হাতে ৯ ওভারে মাত্র ৩৯ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন দীপ্তি শর্মা। দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যক্রম ভেঙে দেন একাই। উলভার্টের ৭১ রানের ইনিংস সত্ত্বেও বাকি ব্যাটারদের সামলাতে পারেনি আফ্রিকা।

দলের সংহতি, আত্মবিশ্বাস, আর মাঠে নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে ভারতীয় মহিলারা বুঝিয়ে দিলেন, তারা আর শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, এখন তারা বিশ্বসেরা।

দীর্ঘ তিনবারের প্রচেষ্টার পর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নারী ক্রিকেটে ভারতের প্রথম একদিনের বিশ্বকাপ জয়। কলকাতা থেকে কোয়েম্বাটুর, দিল্লি থেকে দেরাদুন—দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উদ্‌যাপন।
হরমনপ্রীত বললেন—

“এটা শুধু আমাদের জয় নয়, এটা ভারতের প্রতিটি মেয়ের জয়, যারা স্বপ্ন দেখে হাতে ব্যাট তুলে নেওয়ার।”