কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক:
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ১৭ দিন ধরে আন্দোলন, সিবিআই তদন্ত ও একাধিক পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক; সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল রাঁচিতে !
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে ছাত্র আন্দোলন সোমবার আরও তীব্র আকার নিল। জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার পৌঁছে গেল বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে। আন্দোলনের ১৭তম দিনে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী বিধানসভা অভিমুখে মিছিল শুরু করলে একের পর এক ব্যারিকেড ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘাত বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে এবং পরে লাঠিচার্জ করে। পুলিশের পদক্ষেপের পরেও বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ পিছিয়ে যেতে অস্বীকার করে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পুরনো বিধানসভা ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল। হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, ফুল এবং বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তাঁরা শুধুমাত্র নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু বিধানসভা ভবনের দিকে এগোতেই নিরাপত্তার একাধিক স্তরের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়াও বসানো হয়।
প্রশাসনের তরফে বিধানসভা চত্বরের ৭৫০ মিটারের মধ্যে BNSS-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। প্রায় দুই হাজার অতিরিক্ত পুলিশকর্মী, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি এবং জলকামান মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই কড়া ছিল যে আন্দোলনকারীদের বিধানসভা চত্বরের কাছাকাছি পৌঁছনো ঠেকাতে একাধিক স্তরে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু সেই নিরাপত্তা বলয়ই শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা পরপর কয়েকটি ব্যারিকেড অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাঁদের থামানোর চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য লাঠিচার্জ করা হয় বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হওয়ার দাবি করেছেন। কারও মাথা, কারও হাত ও মুখে আঘাত লেগেছে বলে আন্দোলনকারীদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পুলিশের লাঠিচার্জের পাল্টা হিসেবে আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে খালি জলের বোতল ও চটি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তিও হয়। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়। ফলে বিধানসভা অভিমুখে ছাত্রদের এই মিছিল কার্যত পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি সংঘর্ষের চেহারা নেয়।
তবে আন্দোলনের মূল বিষয় শুধু সোমবারের সংঘর্ষ নয়। গত ১৭ দিন ধরে জেপিএসসি-জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে একাধিক অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, পরীক্ষার অনিয়মের স্বাধীন তদন্ত এবং গোটা বিষয়টি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া। কিছু আন্দোলনকারী আবার ঝাড়খণ্ডের বাইরে অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও তুলেছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়োগ পরীক্ষার গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনও পরীক্ষার্থী অনিয়মের শিকার না হন, তার জন্য স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে জেপিএসসি ও জেএসএসসির কাজকর্মে পরিবর্তন আনার দাবিও সামনে এসেছে।
এদিকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখনও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রায় ৯৮ শতাংশ মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, যে ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি তাঁরা করেছেন, তার মধ্যে সরকার মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মত হয়েছে। ফলে মূল বিরোধের জায়গা এখনও থেকেই গিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার আরও বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘটনা ঘটে। ঝাড়খণ্ড সিআইডি নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্তে প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেরেকে গ্রেফতার করেছে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল মনোজ কৌশিক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁকে এর আগে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাঁর গ্রেফতারের ফলে এই মামলায় সিআইডির হাতে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০-তে।
খিয়াংতে গত ২২ জুলাই জেপিএসসি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাঁর আগে রবিবার জেপিএসসির তিন সদস্যও পদত্যাগ করেন। ফলে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে চলা বিতর্ক যে এখন কেবল ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও তার প্রভাব পড়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের মধ্যেও অনশন চলছে। জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো, যিনি কয়েক দিন ধরে অনশনে রয়েছেন, সোমবার অ্যাম্বুল্যান্সে করে মিছিলে যোগ দেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সংগঠন প্রায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে মিছিলে মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে, যাতে বহিরাগত বা সমাজবিরোধী কোনও শক্তি আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পরিস্থিতি নষ্ট করতে না পারে।
এই আন্দোলন এখন ঝাড়খণ্ডের চাকরিপ্রার্থীদের কাছে শুধু একটি পরীক্ষা বাতিলের দাবি নয়, বরং সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর একটি নিয়োগ পরীক্ষায় বসা তরুণ-তরুণীদের কাছে প্রশ্নপত্র, ফলাফল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পরীক্ষায় কোনও ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যতের উপর।
রাঁচির সোমবারের ঘটনা সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। একদিকে প্রশাসনের দাবি, বিধানসভা চত্বরের নিরাপত্তা রক্ষায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাঁদের ন্যায্য দাবির উত্তর লাঠি বা জলকামান নয়, বরং স্বচ্ছ তদন্ত এবং কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে দিতে হবে। সরকার ও ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার দরজা আবার খুলবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কারণ শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। চাকরির পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আস্থা ফিরিয়ে আনা—এই তিনটি বিষয়ের সমাধান না হলে রাঁচির রাজপথে ক্ষোভ যে আরও বাড়তে পারে, সোমবারের ঘটনাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গেল।
JPSC-JSSC Protest Escalates in Ranchi: Police Use Water Cannons and Lathicharge as Students March Towards Assembly
The long-running protest by JPSC and JSSC aspirants in Jharkhand intensified on Monday as thousands of students marched towards the state Assembly in Ranchi, demanding cancellation of allegedly irregular recruitment examinations and an independent probe, including a CBI investigation.
The agitation entered its 17th day as protesters crossed several layers of barricades erected along the route to the new Assembly complex. Police used water cannons and later resorted to lathicharge near Jagannathpur Temple after the crowd continued advancing. Several protesters claimed they were injured during the police action.
The march began around 10:30 am from outside the old Assembly building. Students carried the national flag, flowers and placards demanding examination reforms and an impartial investigation. Security arrangements were extensive, with around 2,000 additional personnel, Rapid Action Force units, riot-control vehicles and water cannons deployed. Prohibitory orders were also imposed within a 750-metre radius of the Assembly complex.
The protesters are demanding cancellation of several recruitment examinations and changes in the functioning of the Jharkhand Public Service Commission and Jharkhand Staff Selection Commission. They have also demanded either a CBI probe or an independent inquiry by retired High Court judges from outside Jharkhand.
The government has claimed that it accepted around 98 per cent of the protesters' demands during discussions. Protest leaders, however, dispute the claim, saying the government has agreed to cancel only three of the 13 examinations they want scrapped.
The situation was further complicated by the arrest of former JPSC chairperson L Khiangte by the Jharkhand CID in connection with alleged recruitment irregularities. His arrest brings the total number of arrests in the case to 20.
The confrontation has now turned the recruitment examination controversy into a wider debate over transparency, accountability and the credibility of government recruitment in Jharkhand.
Continue With Google
Comments (0)