শীতের কনকনে ঠান্ডা ছিলই, তবে বরফের দেখা মিলছিল না। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চিল্লাই কালান শুরু হতেই রাতভর তুষারপাতে সাদা চাদরে ঢেকে গেল কাশ্মীর। প্রায় দু’মাসের টানা শুষ্ক আবহাওয়ার পর বরফ আর বৃষ্টির দেখা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন উপত্যকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
শীতের সবচেয়ে কঠিন ৪০ দিনের পর্ব Chillai Kalan শুরু হওয়ার প্রথম রাতেই মরশুমের প্রথম উল্লেখযোগ্য তুষারপাত দেখে কাশ্মীর। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি ও বরফ না হওয়ায় জলসংকট, ধুলো-মাখা বাতাস এবং পর্যটন-মন্দায় নাজেহাল ছিল উপত্যকা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শনিবার রাতের এই তুষারপাত যেন নতুন করে প্রাণ ফেরাল কাশ্মীরকে।
প্রথম তুষারপাতের খবর এসেছে Gurez Valley, Warwan Valley এবং দক্ষিণ ও উত্তর কাশ্মীরের একাধিক উঁচু এলাকা থেকে। তুষারে ঢেকে গিয়েছে Sinthan Top, Razdan Pass, Sadhna Top, Zojila এবং পর্যটকদের প্রিয় Sonmarg। শুধু কাশ্মীর উপত্যকাই নয়, Drass ও Kargil জেলার একাংশেও নতুন তুষারপাত রেকর্ড হয়েছে।
চলতি বছরে কাশ্মীর উপত্যকা অন্যতম দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের সাক্ষী ছিল। প্রায় দু’মাস ধরে বৃষ্টি বা তুষারপাত না হওয়ায় নদী, ঝরনা ও পাহাড়ি জলধারার জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়েছিল। শুষ্ক ঠান্ডা আরও তীব্র হয়ে উঠছিল, বাড়ছিল পানীয় জলের ঘাটতির আশঙ্কা। সেই প্রেক্ষাপটে এই তুষারপাত শুধু আবহাওয়ার বদল নয়, ভবিষ্যতের জলভাণ্ডারের জন্যও আশার আলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে India Meteorological Department জানিয়েছে, রবিবার থেকে Jammu and Kashmir-এর উঁচু এলাকাগুলিতে মাঝারি থেকে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দু’দিনে তুষার ও বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই আবহাওয়া ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বরফ ও বৃষ্টিতে দীর্ঘদিনের শুষ্ক ঠান্ডা কিছুটা হলেও কাটবে। নতুন করে প্রাণ পাবে হিমবাহ, ঝরনা ও পাহাড়ি জলধারা। একই সঙ্গে বরফ দেখতে আসা পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়বে, যা শীতকালীন পর্যটন শিল্পের জন্য বড় স্বস্তি।
শনিবার শীতকালীন প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী Omar Abdullah। বৈঠকের শেষে তিনি জানান, সম্ভাব্য ভারী তুষারপাত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যদিও প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে আবহাওয়া পুরোপুরি বদলালে।
ওমর আবদুল্লাহ বলেন, “তুষারপাত কিছুটা ভোগান্তি আনলেও উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই এই বরফের অপেক্ষায় ছিল। বরফ বাতাস পরিষ্কার করবে, দূষণ কমাবে এবং শীতকালীন পর্যটনের সূচনা করবে।” তাঁর কথায়, প্রশাসনের কাজের মূল্যায়ন হবে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর—সময়মতো রাস্তা পরিষ্কার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পানীয় জলের জোগান।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ট্রান্সফরমারের তেল মজুত ঠিক আছে কি না, তা কড়া নজরে রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় চার চাকার অ্যাম্বুল্যান্স এবং অন্যান্য জায়গায় চেন লাগানো অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। Srinagar শহরের জল জমার প্রবণ এলাকাগুলিতে আগাম পাম্প বসানোর কথাও বলেন তিনি।
বরফে ঢাকা কাশ্মীর আবারও প্রমাণ করল—শীত এখানে শুধু দুর্ভোগ নয়, একই সঙ্গে জীবন, জীবিকা আর পর্যটনের নতুন সূচনাও।
Comments (0)