কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৭ অক্টোবর 

দেশজুড়ে পথকুকুরদের হামলা নিয়ে উদ্বেগ চরমে। শহর থেকে গ্রাম — কোথাওই যেন রেহাই নেই। শিশুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলি বারবার শিরোনাম দখল করছে। এবার সেই ঘটনায় কঠোর মনোভাব নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট কড়া ভাষায় জানিয়ে দিল — যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনো পর্যন্ত পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ সংক্রান্ত হলফনামা দেয়নি, তাদের মুখ্যসচিবদের আগামী সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আদালতে হাজির থাকতে হবে।

‘In Re: City Hounded By Strays, Kids Pay The Price’ শিরোনামের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন.ভি. আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, “ক্রমাগত ঘটতে থাকা পথকুকুর হামলা দেশের ভাবমূর্তিকে বিদেশের চোখে কলঙ্কিত করছে।”

বিচারপতি নাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন ঘটনা চলছেই, অথচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন যেন উদাসীন। বিদেশে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, অথচ আপনারা কিছুই করছেন না! খবরের কাগজে, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন এমন ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে — কর্মকর্তারা তা দেখেন না?”

আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ, তেলেঙ্গানা এবং দিল্লি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনই হলফনামা জমা দিয়েছে, তাও আদালতের নথিতে তা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বাকিদের আগামী সপ্তাহে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে বলা হয়েছে। আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি — নির্দেশ না মানলে আর্থিক জরিমানা ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৮ জুলাই এক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত “In a City Hounded by Strays, Kids Pay Price” প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে।
এর পর ১১ আগস্ট দিল্লি, নয়ডা, গুরগাঁও এবং গাজিয়াবাদে পথকুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত এবং তাদের রাস্তায় ছেড়ে না দেওয়ার কথা বলে। তবে সেই নির্দেশ আগের আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায়, বিষয়টি তিন বিচারপতির বেঞ্চে হস্তান্তর করা হয়।

২২ আগস্ট বিক্রম নাথের বেঞ্চ আগের আদেশ স্থগিত করে জানায়, পথকুকুরদের নির্বীজকরণ, টিকা এবং কৃমিনাশক প্রক্রিয়ার পর তাদের মূল এলাকায় ফিরিয়ে দিতে হবে — সেটিই আইনত সঠিক ব্যবস্থা। শুধুমাত্র র‍্যাবিস আক্রান্ত বা আক্রমণাত্মক কুকুরদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে Animal Birth Control (ABC) Rules কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার ধারে কুকুর খাওয়ানো নিষিদ্ধ করে নির্দিষ্ট ‘ফিডিং জোন’ তৈরির কথা বলেছে আদালত।
সব রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাকে সমন্বিতভাবে এই আইন প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে আদালত এবং দেশব্যাপী এক নীতিমালা তৈরির ইঙ্গিতও দিয়েছে।

আদালত বলেছে, “যদি আগামী ৩ নভেম্বর সব মুখ্যসচিব হাজির না হন, আমরা আদালতের কার্যক্রম অডিটোরিয়ামে করব, যাতে দায়বদ্ধতা থেকে কেউ পালাতে না পারেন।”

এই মামলার মূল বার্তা একটাই — প্রাণীর অধিকার রক্ষা ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। আদালত চায়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেই পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে আসুক সুনির্দিষ্ট নীতি ও কঠোর প্রয়োগ।