কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১২ ডিসেম্বর

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও লোকসভার সাবেক স্পিকার শিবরাজ পাটিল শুক্রবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার দেবঘরে নিজের বাসভবনেই শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়াত হন।

শিবরাজ পাটিল শুধু একজন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নন—ভারতের প্রশাসন ও সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষায় তাঁর অবদান ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

লোকসভার ১০তম স্পিকার (১৯৯১–১৯৯৬)

শিবরাজ পাটিল দেশের সংসদীয় ইতিহাসে অন্যতম শালীন, নম্র ও দক্ষ স্পিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিতর্ক পরিচালনায় তাঁর নিরপেক্ষতা ও শিষ্টাচার আজও রাজনৈতিক মহলে দৃষ্টান্ত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী (বিশেষত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ২০০৪–২০০৮)

ইউপিএ-১ সরকারের সময় পাটিল ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, কেন্দ্র–রাজ্য সমন্বয়—সবক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

পাঞ্জাবের রাজ্যপাল ও চণ্ডীগড়ের প্রশাসক (২০১০–২০১৫)

সংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। পাঞ্জাব ও চণ্ডীগড়ে তাঁর প্রশাসনিক কাজের প্রশংসা করেছিলেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

শিবরাজ পাটিলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল মহারাষ্ট্রের লাতুর পৌর পরিষদের প্রধান হিসেবে। পরে ৭০-এর দশকে তিনি বিধায়ক হন এবং এরপর সাত বার লাতুর লোকসভা কেন্দ্রে জয়ের রেকর্ড গড়েন।
২০০৪ সালে তিনি বিজেপি প্রার্থী রূপতাই পাটিল নিলাঙ্গেকারের কাছে পরাজিত হলেও, জাতীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব অটুট ছিল।

১৯৩৪ সালের ১২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া শিবরাজ পাটিল ছিলেন—

  • অসাধারণ পাঠক,

  • তিন ভাষায় (মারাঠি, হিন্দি, ইংরেজি) সাবলীল বক্তা,

  • সংবিধান বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন এক চিন্তাবিদ।

কংগ্রেসের এক শীর্ষনেতা তাঁর সম্পর্কে বলেন—

“ব্যক্তিগত আক্রমণ তাঁর স্বভাবে ছিল না। প্রকাশ্যে হোক বা ব্যক্তিগত কথোপকথনে—তিনি সর্বদা মর্যাদার সঙ্গে মত প্রকাশ করতেন।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

“শিবরাজ পাটিলজি-র প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি। দীর্ঘ জনজীবনে তিনি বিধায়ক, সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার ও লোকসভার স্পিকার হিসেবে দেশকে সেবা করেছেন। কয়েক মাস আগেই তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাই।”

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

“শিবরাজ পাটিলজি-র মৃত্যুতে দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ জননেতাকে হারাল। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।”

পরিবারে রয়ে গেলেন…পুত্র শৈলেশ পাটিল,পুত্রবধূ অর্চনা পাটিল (যিনি বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত),এবং দুই নাতনি।

দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ এবং শালীন রাজনৈতিক চর্চার যে আদর্শ তিনি রেখে গেলেন, তা ভারতীয় রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার হিসেবে রয়ে যাবে। শিবরাজ পাটিলের মৃত্যু নিঃসন্দেহে জাতীয় নেতৃত্বের এক যুগের অবসান।