কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৭ অক্টোবর
https://youtu.be/2kBPcDcLWwUCLICK HERE 👆 TO WATCH THE VIDEO
নির্বাচনের আগে গোটা দেশে ফের শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বড়সড় পর্যালোচনা। বিহারে শেষ হওয়ার পর এবার দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালু হতে চলেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া। সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) ঘোষণা করেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই SIR কর্মসূচির দিনক্ষণ।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, “ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই SIR-এর লক্ষ্য। যারা যোগ্য, তাদের নাম অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, আর যারা অযোগ্য, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।”
কোন কোন রাজ্যে হচ্ছে SIR:
-
আন্দামান ও নিকোবর
-
ছত্তিসগড়
-
গোয়া
-
গুজরাত
-
রাজস্থান
-
তামিলনাড়ু
-
পশ্চিমবঙ্গ
-
কেরালা
-
মধ্যপ্রদেশ
-
পন্ডিচেরি
-
লাক্ষাদ্বীপ
এই রাজ্যগুলিতে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে ব্লক লেভেল অফিসার (BLO)-দের প্রশিক্ষণ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি BLO তিন বার করে প্রতিটি বাড়িতে যাবেন ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করতে।
বিশেষ দিকনির্দেশ ও নিয়মাবলি:
-
২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের বা তাঁদের বাবা-মায়ের নাম ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনও নথি জমা দিতে হবে না।
-
BLO-রা প্রতিটি বাড়িতে অন্তত তিনবার গিয়ে ভোটারের উপস্থিতি যাচাই করবেন।
-
আজ, অর্থাৎ সোমবার মধ্যরাতের পর থেকে ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয়ে যাবে, অর্থাৎ নতুন সংযোজন বা বাদ দেওয়ার কাজ এই পর্যায়ের SIR অনুযায়ী চলবে।
SIR নিয়ে প্রথম থেকেই উত্তাল রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দলগুলি—বাংলায় তৃণমূল, বিহারে আরজেডি, উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে—সকলেই বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে।
বিহারে এর আগের পর্যায়ে SIR শেষে ৬৫ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, যা নিয়ে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি সেই প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে।
তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সোমবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বিহারে SIR নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কমিশনের কাছে জমা পড়েনি। ফলে আমরা ধরে নিচ্ছি প্রক্রিয়াটি সঠিক ও নিয়মমাফিক হয়েছে।”
অন্যদিকে দীর্ঘ দুই দশক পর ফের দেশে চালু হচ্ছে এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন। শেষবার SIR হয়েছিল ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে। এবারের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা ডিজিটাল যাচাই ও ফিল্ড ইনস্পেকশন—দুটিকেই একত্রে ব্যবহার করবে, যাতে তালিকায় কোনো রকম জাল বা ডুপ্লিকেট নাম না থাকে।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “ভোটার তালিকা কেবল একটি প্রশাসনিক নথি নয়, এটি গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাই আমরা চাইছি কোনও প্রকৃত নাগরিক যেন বাদ না পড়েন, আবার কেউ যেন অযথা অন্তর্ভুক্ত না হন।”
SIR প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রতিটি রাজ্যে নতুন করে প্রকাশ করা হবে পরিশোধিত ভোটার তালিকা, যা আগামী নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
Continue With Google
Comments (0)