মকর সংক্রান্তির পবিত্র লগ্নে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) দেওয়া বার্তায় তিনি দেশবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের কামনা করেন। সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশকে কেন্দ্র করে পালিত এই মধ্য-শীতের ফসল উৎসব দেশজুড়ে নানা নামে, নানা রীতিতে উদযাপিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়,“দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় রীতি ও প্রথা অনুযায়ী সংক্রান্তি উদযাপিত হয়। এই পবিত্র উপলক্ষে সূর্যদেবের কাছে সকলের সুখ, সমৃদ্ধি ও উৎকৃষ্ট স্বাস্থ্যের প্রার্থনা করি।”
মকর সংক্রান্তির পাশাপাশি উত্তরায়ণ ও মাঘ বিহু উপলক্ষেও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মাঘ বিহু সম্পর্কে তিনি লেখেন, এটি ফসল, প্রাচুর্য ও একতার আনন্দ উদযাপনের উৎসব। তাঁর আশা, এই উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে।
মকর সংক্রান্তি ও একাদশী উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের Prayagraj-এ মাঘমেলা ঘিরে ভক্তসমাগম চোখে পড়ার মতো। গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গমে পুণ্যস্নানের জন্য ভোর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধু-সন্ন্যাসী ও সাধারণ ভক্তরা।
মাঘমেলা আধিকারিক ঋষি রাজ জানান, ভোর ৬টা পর্যন্তই প্রায় ৯ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ পুণ্যস্নান সেরেছেন। মকর সংক্রান্তির মূল স্নানের দিনে এই সংখ্যা এক কোটিরও বেশি ছুঁতে পারে বলে প্রশাসনের অনুমান।
শীত উপেক্ষা করেই বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পাশাপাশি এটিএস-এর মোবাইল প্যাট্রোল দল মোতায়েন রয়েছে। মেলা চত্বরে প্রায় ১০ হাজার পুলিশকর্মী দায়িত্বে আছেন বলে জানিয়েছেন এসপি মাঘমেলা নীরজ পাণ্ডে।
প্রয়াগরাজের ডিভিশনাল কমিশনার সৌম্য আগরওয়াল বলেন,
“পুণ্যস্নান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সমস্ত বাহিনীকে ব্রিফ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটেই নজরদারি চলছে।”
মকর সংক্রান্তিতে অযোধ্যায় সরযূ নদীতেও পুণ্যস্নানে অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে মন্ত্রী সুজিত বোস দাবি করেন, “দেশের আর কোথাও এত বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ একসঙ্গে আয়োজন করা হয় না।”
মকর সংক্রান্তি, উত্তরায়ণ, মাঘ বিহু—নাম আলাদা হলেও উৎসবের মূল সুর একটাই: ফসলের আনন্দ, প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সামাজিক বন্ধনের দৃঢ়তা। প্রধানমন্ত্রী থেকে সাধারণ ভক্ত—সকলের অংশগ্রহণে এই উৎসব ফের একবার দেশজুড়ে ঐক্য ও সংস্কৃতির বহুত্বকে তুলে ধরল।
Comments (0)