কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২২ ডিসেম্বর

ঈশ্বর আছেন কি নেই—এই প্রশ্ন মানবসভ্যতার মতোই পুরনো। কিন্তু সেই চিরন্তন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শনিবার নয়াদিল্লিতে যে বিতর্ক বসেছিল, তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার আনাচে-কানাচে। কারণ, সেই মঞ্চ থেকেই প্রখ্যাত গীতিকার ও চিন্তাবিদ Javed Akhtar এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা—
“এর চেয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী অনেক ভালো।”

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—মোদী সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবেই পরিচিত জাভেদ আখতার কেন ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনায় প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে ‘ভালো’ বললেন?

শনিবার নয়াদিল্লির Constitution Club of India-তে আয়োজিত এক বিতর্ক সভায় মুখোমুখি হয়েছিলেন জাভেদ আখতার এবং ইসলামি পণ্ডিত Mufti Shamail Nadwi। বিতর্কের বিষয়— ‘ঈশ্বর কি আছেন?’

নিজেকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘নাস্তিক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া জাভেদ আখতার মঞ্চে স্পষ্টভাবেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। যুক্তির পর যুক্তি সাজিয়ে তিনি বলেন, ঈশ্বরের ধারণার সঙ্গে বাস্তব পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার কোনও মিল খুঁজে পান না।

নিজের বক্তব্যে জাভেদ আখতার টেনে আনেন গাজার ভয়াবহ যুদ্ধ ও সেখানে শিশুদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ। তাঁর প্রশ্ন,
“ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হন, সর্বত্র থাকেন, তাহলে গাজায় শিশুদের ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য কি তাঁর চোখ এড়ায়? যদি তিনি দেখেও চুপ করে থাকেন, তাহলে তাঁর উপর বিশ্বাস রাখা যায় কীভাবে?”

এই যুক্তির সূত্র ধরেই আসে সেই বহুল চর্চিত মন্তব্য। জাভেদের কথায়,
“এর চেয়ে তো আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদী অনেক ভালো। অন্তত তিনি মানুষের কিছু খেয়াল তো রাখেন।”

এই তুলনাই মুহূর্তে ঝড় তোলে নেটদুনিয়ায়।

জাভেদ আখতার আরও বলেন, যেখানে যুক্তি বা প্রমাণ থাকে না, সেখানেই ‘বিশ্বাস’-কে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়। ধর্ম ও ঈশ্বরের নামে হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন—
“কেন ঈশ্বরের ধারণাকে প্রশ্ন করা যাবে না? আর এ কেমন ঈশ্বর, যিনি শিশুদের বোমায় ছিন্নভিন্ন হতে দেন?”

তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে তীব্র অংশে তিনি বলেন,“যদি ঈশ্বর থাকেন এবং এমনটা হতে দেন, তাহলে তাঁর না থাকাই ভালো।”জাভেদের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে মুফতি শামাইল নাদওয়ি বলেন,
“ঈশ্বর মন্দের সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তিনি নিজে মন্দ নন।”

মুফতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঈশ্বর মানুষকে ‘ফ্রি উইল’ বা স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন। মানুষ সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে বলেই পৃথিবীতে হিংসা, যুদ্ধ আর অপরাধ ঘটে। তার দায় ঈশ্বরের উপর চাপানো যায় না।

তিনি আরও যুক্তি দেন, বিজ্ঞান আমাদের বলতে পারে মহাবিশ্ব কীভাবে চলে, কিন্তু কেন মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে—তার উত্তর কেবল ধর্মতত্ত্বই দিতে পারে।

এই বিতর্কের ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। একাংশ জাভেদ আখতারের মন্তব্যকে ‘ধর্ম অবমাননা’ বলে কটাক্ষ করছেন। আবার অনেকেই তাঁর যুক্তি, স্পষ্টভাষিতা এবং রসবোধের প্রশংসায় সরব।

বিশেষ করে ‘ঈশ্বরের চেয়ে মোদী ভালো’ মন্তব্যটি কেউ দেখছেন ব্যঙ্গ হিসেবে, কেউ দেখছেন ঈশ্বরের ধারণার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ হিসেবে।

ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, জাভেদ আখতার ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন তুলনা টেনেছেন, যাতে মানুষ প্রশ্ন করতে শেখে। ঈশ্বর, ধর্ম, বিশ্বাস—সব কিছুর ঊর্ধ্বে মানবিকতা ও নৈতিকতার জায়গাটাই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে।

তবে একথা নিশ্চিত—এই মন্তব্যে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, জাভেদ আখতার মানেই বিতর্ক, যুক্তি আর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়ার সাহস।