কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৬ ডিসেম্বর
দেশ জুড়ে দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ যখন একের পর এক উঠে আসছে, ঠিক সেই সময়েই রাজনীতির ময়দানে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। শুক্রবার তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে ২০০২ সালের এক ঐতিহাসিক ভিডিও শেয়ার করেন—যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Atal Bihari Vajpayee প্রকাশ্যে তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী Narendra Modi-কে ‘রাজধর্ম পালন’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভিডিও পোস্ট নিছক স্মৃতিচারণ নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক তীব্র বার্তা।
২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাজপেয়ীর সেই বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। মুখ্যমন্ত্রী মোদীকে পাশে বসিয়ে বাজপেয়ী বলেছিলেন,
“মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আমার একটাই বার্তা—উনি রাজধর্ম পালন করুন। রাজার কাছে প্রজায়-প্রজায় কোনও ভেদ হয় না। জন্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে শাসক কখনও বৈষম্য করতে পারেন না।”
সেই সময় মোদীর চোখেমুখে অস্বস্তি ধরা পড়েছিল বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন।
২৫ ডিসেম্বর বাজপেয়ীর জন্মদিনের ঠিক পরের দিনই সেই ভিডিও শেয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “ভারতের সামাজিক পরিবেশকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিষিয়ে তোলা হচ্ছে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
অভিষেকের এই পোস্ট এমন এক সময় এসেছে, যখন বিভিন্ন রাজ্য থেকে গণপিটুনি, দলিত ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসছে।
সম্প্রতি ওডিশায় বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের যুবক জুয়েল শেখকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। কেরালাতেও পরিযায়ী শ্রমিক রামনারায়ণ বাঘেলের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাম সরকার সেখানে সরাসরি আরএসএস ও বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলির সামগ্রিক প্রেক্ষিতেই অভিষেকের ‘রাজধর্ম’ প্রসঙ্গ তোলা।
নিজের X (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডলে অভিষেক কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার নাম না করলেও স্পষ্ট ভাষায় লেখেন,
“ক্ষমতার জোরে বলীয়ান হয়ে দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের উপর প্রকাশ্যে আক্রমণ চালাচ্ছে ডানপন্থী শক্তিগুলি। ধর্মের মোড়কে চলছে ঘৃণা, হুমকি ও গণপিটুনি।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতেই এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। তাঁর কথায়,
“যখন ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরাই হিংসায় লিপ্ত হয় বা হিংসাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়, তখন দোষীদের আর শাস্তি হয় না। সেটাই নীতি হয়ে দাঁড়ায়।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, এই ধরনের হামলা সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি। তাঁর মন্তব্য,
“এই হিংসা ভারতের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ভিত্তিকে ধ্বংস করছে। আজ যদি আমরা চুপ করে থাকি, তা হলে অন্যায়কেই সমর্থন করা হবে। ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাজপেয়ীর ‘রাজধর্ম’-এর ভিডিও পোস্ট করে অভিষেক একদিকে নৈতিক শাসনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছেন, অন্যদিকে বর্তমান শাসকদের দিকেই তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
দুই দশক আগের একটি ভিডিও আজ নতুন করে রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বাজপেয়ীর মুখে উচ্চারিত ‘রাজধর্ম’ শব্দবন্ধকে সামনে এনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেন বর্তমান ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন—শাসকরা কি এখনও সেই রাজধর্ম পালন করছেন ?
Comments (0)