কলকাতা টাইমস নিউজ | নিউজ ডেস্ক | কলকাতা | ৩০ জুন
সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল হতে পারে— এমন আলোচনা প্রশাসনিক অন্দরমহল থেকে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠক এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে তাঁর পর্যালোচনা বৈঠকের পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের একাংশ এবং বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, ২০ জুলাই থেকে সম্ভাব্য বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে হাতে যে সময় রয়েছে, তাতে এত বড় মন্ত্রিসভা রদবদল বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।
সরকারি সূত্রের খবর, বর্তমানে কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার সংসদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করানো। বিশেষ করে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিল নিয়ে সরকার কৌশলগতভাবে এগোতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি বিল আগামী কয়েক বছরের জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। তাই সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে কেন্দ্র আগেই সাংবিধানিক সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ডিলিমিটেশনের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তির মুখে পড়তে হয় সরকারকে। সংসদের দুই কক্ষেই প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই সময় মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হলে যাঁরা দায়িত্ব হারাতে পারেন, তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই ক্ষোভ সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিলের ভোটাভুটিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণ অটুট রাখতে আপাতত কোনও বড় রদবদল না করাই কেন্দ্রের কৌশল হতে পারে। বরং বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরে, সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ বা রদবদলের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
এদিকে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিও রয়েছে। আগামী ১ জুলাই দু’দিনের সফরে ভারতে আসছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এরপর বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ৪ জুলাই রাজস্থান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর। তার পরে ৬ জুলাই থেকে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন তিনি। ১১ জুলাই দেশে ফেরার কথা। ফলে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
যদিও মন্ত্রিসভা রদবদলের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর অতীত রেকর্ড ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। ২০২১ সালের ৭ জুলাই সংসদের অধিবেশনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। সেই সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে এবারের ক্ষেত্রেও শেষ মুহূর্তে কোনও চমক আসবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থেকেই যাচ্ছে।
তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের চেয়ে ডিলিমিটেশন বিল এবং ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত আইন পাশ করানোই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই সংসদের সংখ্যার অঙ্ক, রাজনৈতিক সমর্থন এবং কৌশলগত প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিয়েই আগামী দিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এখনই হবে, নাকি বাদল অধিবেশনের পর— সেই উত্তর মিলতে এখনও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতেই হবে।
Continue With Google
Comments (0)