কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :২১ জানুয়ারি ২০২৬

৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এবার সামরিক শক্তির পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক ঐশ্বর্য তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন। আগামী ২৬ জানুয়ারি, দিল্লির Kartavya Path-এ প্রায় ২,৫০০ শিল্পী একযোগে নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। এই মহা-পরিবেশনা উৎসর্গ করা হচ্ছে জাতীয় সংগীত-সদৃশ মর্যাদাপ্রাপ্ত গান ‘Vande Mataram’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছরের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মূল ভাবনা—
“স্বতন্ত্রতার মন্ত্র: বন্দে মাতরম” এবং “সমৃদ্ধির মন্ত্র: বিকশিত ভারত”।
এই দুই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই নৃত্য, সঙ্গীত, দৃশ্যায়ন ও কথনের মাধ্যমে ভারতীয় জাতিসত্তার বিবর্তনের গল্প তুলে ধরা হবে।

এই বিশেষ পরিবেশনার সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী সুরকার M. M. Keeravani। ‘RRR’ ছবির ‘Naatu Naatu’-এর জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া কীরাবাণী সামাজিক মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, জাতীয় গানের দেড়শো বছর পূর্তিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের জন্য সুর সৃষ্টি করতে পারা তাঁর কাছে “গভীর সম্মানের”।

এই মহাযজ্ঞের সৃজনশীল দলে রয়েছেন—

  • গীতিকার: সুভাষ সেহগল

  • কথক/ন্যারেটর: Anupam Kher

  • কোরিওগ্রাফার: সন্তোষ নায়ার

  • সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে: সন্ধ্যা পুরেচা

  • মঞ্চভাবনা ও পোশাক পরিকল্পনা: সন্ধ্যা রামন

এই পরিবেশনায় অংশ নেবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা। তুলে ধরা হবে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের একাধিক ধারা—
ভরতনাট্যম, কথক, ওড়িশি, কুচিপুড়ি ও মণিপুরী।
কর্তব্যপথের গ্যালারির পটভূমিতে থাকবে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম স্তবকগুলিকে কেন্দ্র করে আঁকা ঐতিহাসিক চিত্রকলা। মূল মঞ্চে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হবে গানের রচয়িতা Bankim Chandra Chatterjee-কে শ্রদ্ধা জানিয়ে।

এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের গ্যালারিগুলিতে আর ‘VVIP’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরিবর্তে, ভারতের নদীর নামে নামকরণ করা হয়েছে আসনবিন্যাস।
এছাড়া, ২৯ জানুয়ারি ‘Beating Retreat’ অনুষ্ঠানে গ্যালারিগুলির নামকরণ হবে ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের নামে—যা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।

এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন—

  • ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen

  • ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট Antonio Costa

প্রায় ১০,০০০ বিশেষ অতিথি—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্যারা-অ্যাথলিট, প্রাকৃতিক চাষি, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি, ISRO-র বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সেরা কর্মীরা—এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এছাড়া, ১৯ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ১২০টি শহরের ২৩৫টির বেশি স্থানে সেনা, নৌসেনা, বায়ুসেনা ও কোস্ট গার্ডের ব্যান্ড পরিবেশনা হবে—জাতীয় গানকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী উৎসবের আবহে।

সব মিলিয়ে, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু কুচকাওয়াজ নয়—ভারতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের এক অনন্য সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা। কর্তব্যপথে ২,৫০০ শিল্পীর নৃত্য-সঙ্গীতে ‘বন্দে মাতরম’ নতুন করে উচ্চারিত হবে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের মন্ত্র হিসেবে।