কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা /নায়দিলি :১৭ নভেম্বর
দ্রুততার প্রতিযোগিতায় সত্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে—জাতীয় প্রেস দিবসের অনুষ্ঠানে এই কঠোর সতর্কবার্তাই দিলেন প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার (PCI) চেয়ারপার্সন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সংকট হল বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষয়। আর এই সংকটকে গভীরতর করছে অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার, যার ফলে তথ্যবিকৃতি, ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তির বিস্তার ক্রমাগত বাড়ছে।
দিল্লিতে আয়োজিত জাতীয় প্রেস দিবসের অনুষ্ঠানে বিচারপতি দেশাই বলেন,
“সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গতি নয়, গুরুত্ব পাওয়া উচিত সঠিকতাকে। সত্যকে ট্রেন্ড বা ভাইরাল কনটেন্টের কাছে বিসর্জন দেওয়া যায় না।”
তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সংবাদ প্রকাশের চাপ এবং ‘সবচেয়ে আগে’ খবর দেওয়ার প্রতিযোগিতা বহুবার সাংবাদিকতার মূল নীতিকেই বিপন্ন করে তুলছে।
ধর্ম বা সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কিত প্রতিবেদন লেখার সময় সাংবাদিকদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন PCI প্রধান।
তিনি বলেন,
“একটি সামান্য ভুল তথ্যও দেশজুড়ে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেবল খবর প্রকাশ করলেই সাংবাদিকের কাজ শেষ হয় না—ফ্যাক্ট চেক, বিশ্লেষণ ও সঠিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা জরুরি।”
প্রেস কাউন্সিলের হালনাগাদ ‘Norms of Journalistic Conduct’ প্রকাশের সময় বিচারপতি দেশাই জানান—
সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
PCI ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে সাংবাদিকদের জন্য গ্রুপ ইনস্যুরেন্স স্কিম চালুর পরামর্শ দিয়েছে।
AI ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এই বিষয়ে বিচারপতি দেশাই বলেন—
“প্রযুক্তি সত্যকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করুক, সত্যকে বিকৃত বা আড়াল করার কাজে নয়। যন্ত্র যতই উন্নত হোক, মানুষের বিচারবোধ, নীতি ও দায়িত্ববোধের কোনও বিকল্প নেই।”
তিনি সাংবাদিকদের সতর্ক করেন, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়লে ভুল তথ্যের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, পিটিআইয়ের সিইও বিজয় জোশি-সহ সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সংস্থার বহু প্রতিনিধি।
সেখানে প্রেস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের নৈতিকতার মানদণ্ড আরও শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
Continue With Google
Comments (0)