কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :০৮ ডিসেম্বর
কলকাতা–আসাম সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন যেন আরও এক ধাপ মজবুত হল সদ্যপ্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গ–কে ঘিরে। অসমের নানা রাস্তা, পার্ক ও জনবহুল এলাকায় শোভা পেতে চলেছে শিল্পীর ফাইবারের একাধিক মূর্তি, আর তার দায়িত্ব পড়েছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমোরটুলির শিল্পীদের ওপর। ইতিমধ্যেই কয়েকটি মূর্তি বিমানে করে অসমে পৌঁছেও গেছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
কুমোরটুলির খ্যাতি বছরের পর বছর ধরে ভারত ছাড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছেছে। আমেরিকা থেকে লন্ডন, মস্কো থেকে অস্ট্রেলিয়া—বহু শহরের দুর্গাপুজোতে এখনও কুমোরটুলির শিল্পীরাই প্রথম পছন্দ। ঠিক সেই ঐতিহ্য ও বিশ্বস্ততার জোরেই এবার তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হল জুবিন গর্গের ফাইবার মূর্তি নির্মাণের দায়।
শিল্পীদের বক্তব্য,
“এই মরসুমে এমন অর্ডার অভূতপূর্ব। মোট ৭০টিরও বেশি মূর্তির বরাত এসেছে!”
শিল্পীরা জানিয়েছেন,
-
ইতিমধ্যেই বহু মূর্তি প্রস্তুত হয়ে অসমে পাঠানো হয়েছে
-
প্রায় ১০টি মূর্তি খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাঠানোর কথা
-
রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা, পার্ক, চৌমাথা ও ওপেন স্পেসে এগুলি বসানো হবে
-
ঠিক কোন কোন স্থানে মূর্তি বসবে—তা খুব শিগগির সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে
মৃৎশিল্পী রাজা পাল বর্তমানে ব্যস্ত সাড়ে চার ফুট উঁচু হাসিমুখের জুবিনের একটি ফাইবার মূর্তির শেষ টাচ-আপ নিয়ে। তাঁর কথায়—
“এই মূর্তি–সহ মোট আটটি মূর্তির অর্ডার এসেছে। সময়মতো শেষ করতে হবে—দিন-রাত কাজ করছি। কাজ শেষ হলেই পাঠিয়ে দেব অসমে।”
শিল্পী সমর পাল ও কমল পাল জানান—
“অর্ডারের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়, জুবিন গর্গ অসমের মানুষের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিয়েছিলেন।”
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের সদস্য বাবু পাল জানান—
“অসমবাসীর বিশ্বাস আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান। তাঁরা জানেন, আমাদের হাতের ছোঁয়ায় মূর্তি আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাই এই দায়িত্ব কুমোরটুলিকে দেওয়া হয়েছে—এটাই গর্ব।”
অন্যদিকে এই সময়টা সাধারণত কুমোরটুলির সবচেয়ে ফাঁকা মৌসুম। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো সব শেষ—সারস্বতী পুজোও অনেক দূরে। তাই শিল্পীদের হাতে কাজ খুব কম থাকে। এসময় সাধারণত ফাইবারের কিছু মূর্তি তৈরির অর্ডার আসে, কিন্তু সংখ্যাটি খুব সামান্য।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্যরকম—জুবিন গর্গের প্রয়াণে অসমজুড়ে যে আবেগের ঢেউ, তারই প্রতিফলন এই বিপুল অর্ডারের ভিড়ে।
কাজ করতে করতে শিল্পীরা বারবার স্মরণ করছেন কুমোরটুলির কিংবদন্তি শিল্পী গোপেশ্বর পাল–কে। তাঁর পুরনো স্টুডিওতে আজও পড়ে রয়েছে ধুলোমাখা কিন্তু জীবন্ত–সম মূর্তি, যেন চলমান মানুষ, প্রাণবন্ত দৃশ্য—যা কুমোরটুলির গৌরবকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
সেই ঐতিহ্যের ধারাই যেন আজও বয়ে চলেছে। তাই হয়তো অসমের মানুষও বিশ্বাস রেখেছেন কলকাতার কুমোরটুলির হাতেই।
Continue With Google
Comments (0)