কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৫অক্টোবর 

২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এমন নৃশংস ঘটনা যেন মধ্যযুগীয় মানসিকতার সাক্ষ্য দেয়। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক বিবাহিতা মহিলার অভিযোগ, শুধুমাত্র পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে শ্বশুর ও দেওরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে! এমন ভয়ঙ্কর অভিযোগে শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা।

এই মামলায় ইতিমধ্যেই মহিলার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর, ননদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ, এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে কানপুরের বাসিন্দা শাহ ফাইদ ও মাহেক খানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
অভিযোগ, জামাইয়ের পক্ষ থেকে মাহেকের বাবার কাছে দাবি করা হয় নগদ কয়েক লক্ষ টাকা ও একটি চারচাক্কা গাড়ি। তা দিতে না পারায় প্রতিদিনই শুরু হয় মারধর, গালিগালাজ, এমনকি খাবার না দেওয়ার মতো অমানবিক আচরণ।

মাহেক জানান, বিয়ের এক বছর পর তিনি প্রথমবার অন্তঃসত্ত্বা হন। কিন্তু আল্ট্রাসাউন্ডে জানা যায় সন্তানটি কন্যা। তারপরই পরিবার চাপ দিতে শুরু করে গর্ভপাতের জন্য।
তিনি বলেন, “আমি কাঁদছিলাম, অনুরোধ করেছিলাম শিশুটিকে রাখতে, কিন্তু ওরা ডাক্তার ডেকে জোর করে গর্ভপাত করায়।”
এর পর দ্বিতীয়বারও একই ঘটনা ঘটে। আবারও গর্ভে কন্যাসন্তান ধরা পড়ায় তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়।

এইভাবে দু’বার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয় মাহেককে— যা আইনত অপরাধ, কারণ ভারতে ভ্রূণ নির্ধারণ ও সেই ভিত্তিতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ।

মাহেকের আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ, এরপর তাঁর স্বামী নিজেই তাঁকে বলেন যে “পুত্রসন্তান না হওয়ার দায় তোমার”, তাই শ্বশুর ও দেওরের সঙ্গে সম্পর্ক করলে হয়তো ছেলেসন্তান জন্মাতে পারে!
মাহেক বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম মজা করছে, কিন্তু কয়েকদিন পর শ্বশুর ঘরে ঢুকে আসে। আমি চিৎকার করলে স্বামী বলে, ‘এটাই তোমার কর্তব্য।’ তারপর থেকে শুরু হয় আমার নরকযন্ত্রণা।”

তিনি জানান, দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে কাটিয়েছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত একমাত্র মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মাহেক। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কানপুর পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মাহেকের স্বামী শাহ ফাইদ, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর ও ননদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পণনির্যাতন, গর্ভপাতের জোরজবরদস্তি, যৌন হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের ধারায় মামলা চলছে।

পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “মহিলার অভিযোগ ভয়ঙ্কর। আমরা মেডিক্যাল রিপোর্ট ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করছি। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

এই ঘটনা আবারও সামনে এনে দিয়েছে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও সমাজের বিকৃত মানসিকতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “একুশ শতকের ভারতে যেখানে নারী মঙ্গল অভিযানে অংশ নিচ্ছেন, সেখানে এখনও এমন পশুত্ব লজ্জাজনক।”

নারীবিদ সংগঠনগুলি দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে।

২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এই ঘটনা শুধু এক নারীর নয়, সমগ্র সমাজের লজ্জা। পুত্রসন্তানের মোহ, পণপ্রথা আর পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা মিলে আবারও সামনে আনল ভারতের অন্ধকার দিক।