দিল্লির তুর্কমান গেটে বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে বুধবার ভোরে চরম উত্তেজনা ছড়াল। উচ্ছেদ অভিযানের সময়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আহত হন পাঁচ পুলিশকর্মী। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে Delhi Police। পুলিশের দাবি, এই বিক্ষোভের নেপথ্যে ষড়যন্ত্র ও উস্কানির উপাদান রয়েছে—আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই উঠে এসেছে সমাজবাদী পার্টির এক সাংসদের নাম।
সরকারি আদালতের নির্দেশ মেনে বুধবার রাত ১টা নাগাদ তুর্কমান গেটের ফয়েজ়-ই-ইলাহি মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে অভিযান শুরু করে Municipal Corporation of Delhi (MCD)। বুলডোজার নামতেই ২০–৩০ জন বিক্ষোভকারী বাধা দেন। পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়—বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে, পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্র্যাফিক) Madhur Verma জানান, “এর পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। তদন্ত চলছে। যাঁরা উস্কানি দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ Mahibullah Nadvi। তবে এই পর্যায়ে এটি অভিযোগ—তদন্তের ফলাফলের উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে বলে জানানো হয়েছে।
রামলীলা ময়দানের কাছে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন ফয়েজ়-ই-ইলাহি মসজিদের আশপাশে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল। বিষয়টি আদালতে গড়ায়। Delhi High Court-এর এক ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই প্রায় ৩৮,৯৪০ বর্গফুট এলাকা দখলমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, অভিযানে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে MCD আধিকারিকরা তা খণ্ডন করে জানিয়েছেন—
“মসজিদে কোনও ক্ষতি হয়নি। শুধু সংলগ্ন বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, অতীতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তদন্তে এই এলাকার নাম আলোচনায় এসেছে। তবে বর্তমান ঘটনায় পুলিশ জোর দিয়ে বলছে—আইনশৃঙ্খলা ভাঙা ও সরকারি কাজে বাধা—এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পরিধি বাড়ানো হবে। উস্কানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা—আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।
Comments (0)