কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৫ ডিসেম্বর

ভারতে বিজেপির জাতীয় রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হল রবিবার। কেন্দ্রীয় সংসদীয় কমিটি ঘোষণা করল—বিহারের মন্ত্রী নীতিন নবীনই হচ্ছেন দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নতুন সভাপতি। তিনি জগৎ প্রকাশ নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হবেন। ৪৫ বছর বয়সী এই নেতা পাঁচবারের বিধায়ক এবং দলের ইতিহাসে অন্যতম কমবয়সী জাতীয় সভাপতি।

নীতিন নবীন পাটনার বাঁকিপুর আসনের জনপ্রিয় মুখ। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরমহলে যেমন নতুন উদ্যম তৈরি হয়েছে, তেমনই বিহারের রাজনৈতিক পরিসরেও এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে।

ঘোষণা হতেই প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নরেন্দ্র মোদী লেখেন—
“নীতিন নবীন একজন পরিশ্রমী ও পরিশীলিত সাংগঠনিক কর্মী। বহুবার বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাজ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। বিনয়ী স্বভাব ও মাটির কাছাকাছি কাজ করার ধরণ তাঁকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তাঁর নেতৃত্বে দল আরও শক্তিশালী হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

২০০৬ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রথমবার পাটনা ওয়েস্ট আসনে উপনির্বাচনে লড়েছিলেন নীতিন। বাবা নবিদ কিশোর সিংহের মৃত্যুর পর দলের মনোনয়ন পান তিনি। প্রায় ৬০ হাজার ভোটে জয়, তারপর থেকে একের পর এক নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জিতে বিজেপির অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

বিহার মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন ছাড়াও ভারতীয় জনতা যুব মোর্চায় দীর্ঘ সংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ছত্তিশगढ़ ও সিকিমে দলীয় প্রভাব বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

যদিও নাড্ডার জন্মও বিহারে, কিন্তু তিনি হিমাচলকে নিজের রাজনৈতিক কর্মভূমি হিসেবে বেছে নেওয়ায় তাঁকে ‘বিহারি সভাপতি’ বলা হয় না। সেই অর্থে নীতিন নবীন হচ্ছেন বিজেপির প্রথম অসাধারণ বিহারি সভাপতি, যা বিহারের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

নিজের নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় নীতিন নবীন বলেন—“দলের কর্মীরাই বহু নীতিন নবীন তৈরি করেন। তাঁদের শ্রম ও ত্যাগের কাছে আমি মাথা নত করি।”

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে জয় এনে দেওয়ার জন্যও তিনি কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।


অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়াজেপি নাড্ডা বলেন—“জ্ঞান ও সংস্কৃতির পবিত্র ভূমি বিহারের এই উদ্যমী নেতার হাতে দল নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।”

অমিত শাহের মন্তব্য—“নীতিন নবীন দীর্ঘদিন মানুষের মধ্যে কাজ করেছেন। তাঁর এই অগ্রযাত্রা প্রতিটি যুব বিজেপি কর্মীর প্রেরণা।”

নীতিন নবীনের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা রয়েছে। দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় তাঁর নেতৃত্ব কতটা নতুন দিশা এনে দেয়, তা এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।