ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ভাবে Bharatiya Janata Party-র দ্বাদশ জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন নিতিন নবীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মোদীর উপস্থিতিতেই বিজেপির সদর দফতরে হয় এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে নীতিন নবীনই হলেন দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় সভাপতি।
দীর্ঘ দিন বিজেপির জাতীয় সভাপতির দায়িত্বে থাকা J P Nadda-র হাত থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন নীতিন নবীন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাড্ডা বলেন,
“আজ বিজেপির জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। আমাদের তরুণ, উদ্যমী ও প্রতিভাবান নেতা নীতিন নবীন বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। কোটি কোটি কর্মীর তরফ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানাই।”
বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার K Laxman নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে নীতিন নবীনের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন প্রমাণ করে বিজেপিতে নেতৃত্ব আসে পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে—বংশানুক্রমিক রাজনীতির মাধ্যমে নয়।”
বিজেপি সদর দফতরে এ দিন উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী—
Rajnath Singh, Amit Shah, Nitin Gadkari-সহ আরও অনেকে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই মুহূর্তে গোটা দলেই ছিল উৎসবের আবহ।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিজেপির জন্মবছরেই জন্ম নীতিন নবীনের। দীর্ঘ দিন নীরবে সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকা এই নেতাকে দল চেনে ‘লো-প্রোফাইল কিন্তু কার্যকর’ সংগঠক হিসেবে।
জাতীয় সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পরই তিনি বিহার সরকারের আইন, নগর উন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। গত ১৪ ডিসেম্বর তাঁকে বিজেপির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল—সেই সিদ্ধান্ত যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত ছিল, তা এ দিন আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নীতিন নবীনের দায়িত্ব গ্রহণ বিজেপিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। সামনের দিনগুলিতে সংগঠন ও নির্বাচনী রাজনীতিতে বিজেপি কোন পথে হাঁটে, সে দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
Comments (0)