কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১২ ডিসেম্বর
গোয়ার বেদনাদায়ক অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর ধাক্কা এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই শুক্রবার সকালে ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে আর এক বারের আগুনে ছড়াল প্রবল আতঙ্ক। সত্য বিহার এলাকার একটি বার–কাম–রেস্তোরাঁতে আচমকা দাউদাউ করে ওঠা আগুনে মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিকের আকাশ।
সৌভাগ্যবশত কোনও হতাহতের খবর নেই, তবে স্থানীয়দের দাবি—দমকলের ইঞ্জিন কয়েক মিনিট দেরি করলে আশপাশের বহুতলেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারত।
ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। দুটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে—শর্ট সার্কিট, বা রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। দমকল বিভাগ ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করেছে আগুন কোন জায়গা থেকে কীভাবে ছড়াল।
অন্যদিকে চিফ ফায়ার অফিসার রমেশ মাঝি জানান—সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কন্ট্রোল রুমে আগুনের খবর আসে,৯টা ১৫-এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল,মোট সাতটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়,আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।তাঁর কথায়—“দমকল সময়মতো না পৌঁছলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। আশপাশের বিল্ডিংয়ে আগুন লেগে যেতে পারত।”
অপরদিকে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ—সকালবেলা অফিসটাইম হওয়ায় রাস্তায় ভিড় ছিল,ধোঁয়া বেরোতে দেখে আশপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন,দ্রুত খালি করা হয় পাশের দোকান ও আবাসনের নিচতলা।
পাশাপসী এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়—“কালো ধোঁয়া আকাশ ঢেকে দিয়েছিল। ভয় হচ্ছিল আগুন পাশের বিল্ডিংয়ে পৌঁছে যাবে। দমকল ঠিক সময়ে এসে যায়—এটাই রক্ষা।”
চলতি সপ্তাহেই গোয়ার এক বারে আগুনে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ওড়িশার ফায়ার প্রিভেনশনস অ্যান্ড ফায়ার সেফ্টি রুলস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বহু বার–রেস্তোরাঁয় উপযুক্ত ফায়ার এক্সিট নেই,অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র অকার্যকর থাকে,রান্নাঘরের নিরাপত্তা মানা হয় না—এমন অভিযোগও উঠছে। নতুন করে ভুবনেশ্বরের এই অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সেফ্টি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র হলো।
প্রসঙ্গত গোয়ার হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের পর তাজা স্মৃতি নিয়েই ভুবনেশ্বরের এই আগুন মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। যদিও বড় বিপদ এড়ানো গেছে, তবুও রাজ্যের বার–রেস্তোরাঁগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবার সামনে এল। আগুনের কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
Continue With Google
Comments (0)