কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৪ নভেম্বর
দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার অল্পের জন্য এড়ানো গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। কাবুল থেকে আসা আরিয়ানা আফগান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নির্দেশিত রানওয়ে এড়িয়ে ভুল রানওয়েতে ল্যান্ডিং করে, যার ফলে কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত প্রায় বিপদ ডেকে আনতে বসেছিল। সৌভাগ্যবশত, ভুল রানওয়েতে ওই মুহূর্তে অন্য কোনও বিমান না থাকায় একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়।
রবিবার কাবুল থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়ে আসে অ্যারিয়ানা আফগান ফ্লাইট FG 311, যা একটি Airbus A310 বিমান।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটিকে 29L রানওয়ে–তে অবতরণের নির্দেশ দেয়, যেটি নিয়ম অনুযায়ী দিল্লি বিমানবন্দরে ল্যান্ডিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু পাইলট নির্দেশ অমান্য করে বিমানটি 29R রানওয়ে–তে নামিয়ে দেন — যা সাধারণত টেকঅফ-এর জন্য ব্যবহৃত রানওয়ে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রানওয়ের ভুল ব্যবহার বিমান চলাচল ব্যবস্থায় ‘কার্যত নিষিদ্ধ ভুল’, কারণ—
-
রানওয়ে 29R সাধারণত টেকঅফের ব্যস্ত রানওয়ে
-
যে কোনও সময় সেখানে অন্য বিমান ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারে
-
ল্যান্ডিং ও টেকঅফ রানওয়ে ভুল হয়ে গেলে মারাত্মক সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মী জানিয়েছেন—
“মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। ভাগ্য ভালো যে 29R রানওয়েতে তখন কোনও বিমান টেকঅফের লাইনে ছিল না।”
যদি অন্য কোনও বিমান ঐ রানওয়েতে অপেক্ষা করত, বা রোলিং এর অবস্থায় থাকত, তবে FG 311–এর ল্যান্ডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ হত বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
সংগৃহীত সব রাডার ডেটা, ATC নির্দেশ, পাইলটের প্রতিক্রিয়া, বিমানটি কোন উচ্চতায় ভুল পথে ঢুকেছিল—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, তদন্ত রিপোর্ট লিখিত আকারে আফগানিস্তান সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট পাইলট ও এয়ারলাইন্স-এর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা যায়।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন—
-
ভুল রানওয়ে ল্যান্ডিংকে গুরুতর নিরাপত্তা বিঘ্ন (Serious Safety Violation) হিসেবে গণ্য করা হয়
-
ভুল নির্দেশ মানা হলে বিমান-সংঘর্ষের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়
-
পাইলটের লাইসেন্স স্থগিত থেকে শুরু করে এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা—সবই সম্ভব
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও একবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দরে রোববারের ঘটনা প্রমাণ করল— বিমান চলাচলের প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি নির্দেশ এবং প্রতিটি প্রস্তুতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এমন ভুল যদি ব্যস্ত সময়ে ঘটত, তবে এর ফল ভয়াবহ হতে পারত।
তদন্ত রিপোর্টে কী বেরিয়ে আসে এবং কোন পাইলট ভুল করেছে—এ নিয়ে এখন নজর বিমান চলাচল মহলের।
Continue With Google
Comments (0)