খগেন মুর্মুর সরব দাবিতে চাপে কেন্দ্র, রাজ্য–কেন্দ্র টানাপোড়েনে আটকে উন্নয়ন !
নির্বাচনের মুখে বাংলার রাজনীতি যখন তপ্ত, ঠিক তখনই সংসদের ভিতরে ঘটল এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য। বিরোধীরা নয়, শাসক দলেরই সাংসদ দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। আর তাতেই মুহূর্তে অস্বস্তিতে পড়ে গেল ট্রেজারি বেঞ্চ।
মালদা উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বৃহস্পতিবার লোকসভায় সরাসরি বিমানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন—কেন মালদায় নতুন বিমানবন্দর তৈরির দাবি বারবার জানানো সত্ত্বেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না?
তাঁর সাফ কথা, “মালদা শিলিগুড়ি থেকে ২৫০ কিলোমিটার এবং কলকাতা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে। এখানে বিমানবন্দর হলে শুধু মালদা নয়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মানুষও উপকৃত হবেন।”
এই মন্তব্যে কার্যত অস্বস্তিতে পড়ে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।
সংসদে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু-সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা। শাসকদলের সাংসদ নিজেই সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই ট্রেজারি বেঞ্চে দেখা যায় চাপা অস্বস্তি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে উন্নয়ন ইস্যু অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সেখানে মালদার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার বিমানবন্দর প্রকল্প ঝুলে থাকায় কেন্দ্রকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলাটা রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
উত্তরে বিমানমন্ত্রী রামমোহন নাইডু খগেনের সক্রিয়তার প্রশংসা করলেও দায় ঠেলে দেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দিকে।
তিনি জানান,“মালদায় একটি পুরনো এয়ারস্ট্রিপ রয়েছে। সেটি সম্প্রসারণের জন্য ২০১৬ সালে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মউ স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু এরপর রাজ্য সরকার কোনও অগ্রগতি দেখায়নি।”
তাঁর দাবি, মালদাকে উডান (UDAN) প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যেই বিডিং খোলা হয়েছে এবং কয়েকটি বিমান সংস্থা আগ্রহও দেখিয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান,২০২৬ সালে বর্তমান উডান প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। তারপর নতুনভাবে প্রকল্প পরিমার্জন করে ১২০টি নতুন ডেস্টিনেশন যুক্ত করা হবে, সেখানে মালদাকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—‘পরিকল্পনা’ থেকে ‘বাস্তবায়ন’ কবে?
মালদা ভৌগোলিকভাবে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগস্থল।
-
সীমান্তবর্তী জেলা
-
আম, রেশম, কৃষিপণ্য রফতানির বড় কেন্দ্র
-
পর্যটন সম্ভাবনা
-
বিহার ও ঝাড়খণ্ডের কাছাকাছি অবস্থান
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে বিমানবন্দর হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে বিপুল সুবিধা মিলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুতে কেন্দ্র–রাজ্যের টানাপোড়েনেই উন্নয়ন আটকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—দোষারোপ নয়, বাস্তবে কবে নামবে বিমান?
সংসদের ভিতরে খগেন মুর্মুর প্রশ্ন যেন সেই জমে থাকা ক্ষোভকেই সামনে এনে দিল।
এখন দেখার, নির্বাচনের আগে এই দাবি বাস্তব রূপ পায় কি না।
Comments (0)