কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৩ ডিসেম্বর

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার—পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে ভারতের জন গণনা। ২০২৭ সালের এই ‘ডিজিটাল সেনসাস’ পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ₹১১,৭১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করল।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেছে—এই সেনসাস হবে “২১ শতকের ডিজিটাল ভারতের জন্য সবচেয়ে আধুনিক, নির্ভুল ও নীতি–নির্ধারণে অত্যন্ত কার্যকর”।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান—জন গণনা হবে মোট দুই ধাপে:

১) হাউসলিস্টিং এবং হাউজিং সেনসাস

  • এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬

  • দেশের প্রতিটি পরিবারের বসবাসের অবস্থা, কাঠামো, সুবিধা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, টয়লেটসহ ঘরের পরিকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য ডিজিটালি তোলা হবে।

২) পপুলেশন এনুমারেশন (PE)

  • ফেব্রুয়ারি ২০২৭

  • ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, মাতৃভাষা, শিক্ষা, পেশা, জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে।

লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীরের বরফাবৃত এলাকা, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এই শুরু হবে PE, কারণ সেখানে ফেব্রুয়ারিতে প্রবল শীতের জন্য গণনা সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা—পপুলেশন এনুমারেশন পর্যায়ে প্রথমবার ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জাতিগত (Caste) তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

এটি ভবিষ্যতে সমাজ–অর্থনৈতিক নীতি, সংরক্ষণ এবং সামাজিক পরিসংখ্যান নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

এই ডিজিটাল সেনসাসে মাঠে নামবেন প্রায় ৩০ লক্ষ কর্মী। তাঁদের হাতে থাকবে বিশেষভাবে তৈরি মোবাইল অ্যাপ, যার মাধ্যমে,যাবতীয় তথ্য রিয়েল–টাইমে সার্ভারে আপলোড হবেভুলের সম্ভাবনা কমবে,ডুপ্লিকেট এন্ট্রি রোধ করা যাবে,সময় এবং খরচ—দুটিই কমবে ডেটা প্রসেসিং ও মনিটরিং হবে একটি কেন্দ্রীয় পোর্টাল থেকে।

অপরদিকে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন—“ডিজিটাল সেনসাসে তথ্যের গুণমান অনেক উন্নত হবে। নীতি–নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য শুধু এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে।”

একইসাথে সরকার জানিয়েছে, প্রথমবার সেনসাস ডেটা তৈরি করা হবে Census-as-a-Service (CaaS) হিসেবে। ডেটা থাকবে মেশিন-রিডেবল,তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য,বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকার দ্রুত নিজেদের নীতি তৈরিতে এই ডেটা ব্যবহার করতে পারবে।এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো, অর্থনৈতিক নীতি—সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজতর হবে।

এই সেনসাস হবে দেশে ডেটা গভর্ন্যান্সের বড় পরীক্ষা।ডিজিটাল সমাজ–অর্থনীতির ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণের যুগে এটি ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের মতে—নির্ভুল ডিজিটাল তথ্য ভারতকে পরিকল্পনা, উন্নয়ন, কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

২০২৭ সালের ডিজিটাল সেনসাস শুধু জনসংখ্যার হিসেব নয়—এটি ভারতের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের এক মাইলফলক হতে চলেছে। জাতিগত তথ্য থেকে শুরু করে ঘরোয়া অবস্থা—সবকিছু ডিজিটাল নথিতে উঠে আসবে, যা আগামী দশকের উন্নয়ননীতিকে নতুন দিশা দেবে।